চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতাদের অভিমত ।। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ তৎপরতার কারণেই সফল হলো মহাসমাবেশ ।। ঐক্য ধরে রাখতে একে অপরের প্রতি আরো আন্তরিক হওয়ার আহ্বান
শুকলাল দাশ ॥
একতা থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ রকম মহাসমাবেশ করা অসম্ভব কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা। যে ঐক্য নিয়ে পলোগ্রাউন্ডের মাঠে ২৮ মার্চের মহাসমাবেশ সফল করে তোলা হয়েছে তা ধরে রাখতে একে অপরের প্রতি আরো আন্তরিক হওয়া দরকার বলে মনে করেন তাঁরা। গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের দিন বেলা সাড়ে ১২ টায় সার্কিট হাউজে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক না হওয়ায় মহানগর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয় নি। তবে দুপুরে খাওয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে শুধুমাত্র মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মন্ত্রী ডাঃ আফছারুল আমীন ও সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসির সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে কথা হয়। এ সময় চট্টগ্রামের নেতাদেরকে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে যে ধারায় উন্নয়নের কাজ চলছে তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-চট্টগ্রামে একটি অর্থনৈতিক জোন করা হবে, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার-ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইনের কাজ দ্রুত শুরু হবে, কালুরঘাটে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রেল সেতু করা হবে এবং চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রকে আলাদা টেরিস্ট্রেরিয়ালের মাধ্যমে পৃথক চ্যানেল হিসেবে চালু করার কাজ শুরু হয়েছে, হালিশহরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের আদলে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে । এ ব্যাপারে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোছলেম উদ্দিন আহমদ আজাদীকে জানান, মহাসমাবেশকে ঘিরে মহানগর আওয়ামী লীগে যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে তাতে কমিটি গঠনের জন্য একটি সুসময় সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জেনেছি মহানগর কমিটি খুব সহসা ঘোষণা হবে। আমরা যেটা চেয়েছিলাম-মহাসমাবেশ সফল করে মহানগর আওয়ামী লীগ সেটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এত বড় মহাসমাবেশে পাল্টাপাল্টি কোনো োগান পর্যন্ত দেখা যায় নি। ২৮ মার্চের মহাসমাবেশকে ঘিরে মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে যে ঐক্য দেখা গেছে তা কিভাবে বজায় থাকবে এবং এই ঐক্য ধরে রাখার জন্য কি উদ্যোগ নেয়া দরকার এই ব্যাপারে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইউনিটি থাকলে সব কিছু করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন-এখানে মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের বাইরে কারো কোনো অস্তিত্ব নেই। এখানে নেতা আসবে নেতা যাবে কিন্তু সংগঠন থাকবে। যে কোনো সংগঠনেরই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সংগঠনে থাকলে ঐক্য নিয়ে থাকতে হবে। আমাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সার্কিট হাউজে দুপুরে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল-কিন্তু তা হয় নি। তবে দুপুরে আমরা তিন জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ মন্ত্রী মহোদয়(মন্ত্রী আফছারুল আমীন) এবং সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসিও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আমাদের সাথে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে কথা হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের ঐক্যের ব্যাপারে নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল জানান, আমাদের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টি হয়েছে-দূরত্ব কমেছে। এটা চলমান থাকতে হবে। এই ঐক্যকে ধরে রাখতে একে অপরের প্রতি আরো আন্তরিক হওয়া দরকার। সামনে আরো সুসংগঠিত হয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।
৩০ এ মার্চ ২০১২