শিরোনাম : গার্ড সংকটে বন্ধ হতে যাচ্ছে লোকাল ট্রেন আদালত বোমায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিদাতা নাসির সহযোগীসহ ৩ দিনের রিমান্ডে ।। হুমকি দিয়ে মামলার রায় পক্ষে চেয়েছিল চমেক মর্গ যেন দালালের স্বর্গরাজ্য লাশ নিয়ে চলে অমানবিক বাণিজ্য ।। টাকা দিলে পাল্টে যায় পোস্টমর্টেম রিপোর্টও! ইবোলা : চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার ২০১৩ খ্রি. ২২ মাঘ ১৪১৯ সাল ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪ হিজরী
চট্রগ্রাম
তাপমাত্রা: ১৭ সে | আর্দ্রতা: ৯৪%

প্রভাবশালী কোনো দেশকে খবরদারি করতে দেয়া হবে না : আশরাফ ।। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ভোট দিয়েছেন (১৪১) জন।
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই

টমেটো চাষ করে লাখপতি সাতকানিয়া লোহাগাড়ার সহস্রাধিক কৃষক

চৌধুরী শহীদ ।। চন্দনাইশ

সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার দুটি ইউনিয়ন ছদাহা এবং পদুয়ার সহস্রাধিক কৃষক শুধুমাত্র টমেটো চাষ করে নিজেদের ভাগ্যবদল করে নিয়েছে। নিজেদের খেতে উৎপাদিত টমেটো বিক্রির টাকায় এসব কৃষকরা এখন লাখপতিতেও পরিনত হয়েছে। টমেটো চাষে নিয়োজিত কৃষকদের মুখে এখন খুশীর ঝিলিক। দুটি ইউনিয়নের প্রায় সব টমেটো চাষীই এখন ভাসছে সুখের সাগরে। অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর টমেটোর ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। তাছাড়া এবছর দামের দিক দিয়ে অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্বিগুন তিনগুন বেশী দাম পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের এ সময়ে বাজারে টমেটো বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়ে আসতে হলেও চলতিবছর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে বিশ থেকে ত্রিশ টাকায়। এ অঞ্চলের প্রধান টমোটোর বাজার বসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের মিঠাপুকুরপাড় শিশুতল এলাকায়। এ বাজারে পাইকারী টমেটো ক্রেতা মোস্তাক আহমদ ও ওসমান গনি জানায় এ বাজার থেকে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে একহাজার মন টমেটো কিনে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। তারা আরো জানায় বর্তমানে প্রতিমন টমেটো তাদের কিনতে হচ্ছে পাঁচশ থেকে ছয়’শ টাকায়। পাইকারী এসব ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে প্রতিদিন কম করে হলেও যদি পাঁচশ মন টমেটোও বিক্রি হয় তাহলে টমেটো বিক্রি করে কৃষকদের দৈনিক আয় হচ্ছে আড়াই থেকে তিনলক্ষ টাকা। সে হিসাবে চারমাসের টমেটোর মৌসুমে উল্লেখিত দু’টি ইউনিয়নে মোট টমেটো বিক্রির পরিমান দাড়ায় তিনকোটি টাকারও উপরে।

সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের দক্ষিণ ছদাহা এবং লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়ায় টমেটোর চাষ হওয়া ৬টি গ্রাম সরেজমিন ঘুরে এবং টমেটোচাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায় চলতি মৌসুমে এ এলাকাগুলোতে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে এবছর সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী সুলভে পাওয়া যাওয়ায় কৃষকরা অন্যান্য বছরের চাইতে বেশী জমিতে টমেটোর চাষ করেছে। মুলতঃ এ এলাকার কৃষকরা একটু বাড়তি আয় পাওয়ার আশায় আগাম টমেটোচাষ করে থাকে। অন্যান্যবছর আগাম টমেটে াচাষ করতে গিয়ে অনাবৃষ্ঠি এবং অতিবৃষ্ঠি কৃষকদের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠলেও চলতি বছর প্রকৃতিদেবী সত্যিই কৃষকদের প্রতি সহায় হয়ে উঠেছিল। যখন যতোটুকু বৃষ্ঠির প্রয়োজন ছিল পুরো মৌসুম ঠিক ততটুকুই বৃষ্ঠি হয়েছে। ফলে টমেটোর ফলন হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় দুই তিনগুন বেশী।

বর্তমানে টমেটোচাষপ্রধান এলাকা সাতকানিয়ার ছদাহা এবং লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকাজুড়ে শোভা পাচ্ছে প্রচুর দৃষ্টিনন্দন টমেটো খেত। দক্ষিণ ছদাহা এলাকার টমেটো চাষী জাফরের সাথে কথা বলে জানা যায় চলতি বছর শুধুমাত্র ছদাহায় আড়াইশ থেকে তিনশ একরের মতো জমিতে টমেটোর চাষ করা হয়েছে। সে নিজেও প্রায় দেড় একরের মতো জমিতে টমেটোর চাষ করেছে। দেড় একর থেকে সে এ পর্য্যন্ত প্রায় দেড়লাখ টাকার মতো টমেটো বিক্রি করেছে। দেড় একর জমিতে তার টমেটো চাষ করতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। একইভাবে শুধুমাত্র ছদাহায় শতাধিক টমেটো চাষীর প্রত্যেকেই এ মৌসুমে লাখ টাকার উপরে টমেটো বিক্রি করতে পেরেছে। টমেটো চাষীরা জানিয়েছে টমেটো চাষে জড়িতদের সার, বীজ, চারা, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সুলভে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে এ অঞ্চলে শুধু টমেটো চাষ থেকে আয় হবে কয়েক কোটি টাকা। সুখের পাশাপাশি কৃষকরা তাদের দুর্ভোগের কথাও শুনিয়েছে এ প্রতিবেদকের কাছে। তারা জানিয়েছে শুধুমাত্র টমেটো চাষ করে যেখানে কৃষকরা কেটি কোটি টাকা আয় করছে সেখানে টমেটো চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ের কেউ কখনো তাদের কাছে আসেনি। এখনো কৃষকরা তাদের নিজস্ব পুরোনো ধ্যান ধারনায় টমেটোর চাষ করে আসছে। সকল ধরনের আধুনিক পদ্ধতির সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হলে শুধুমাত্র টমেটো চাষেই এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে।

টমেটো চাষ করে কোটি কোটি টাকা আয়ের ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দীন হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি টমেটোচাষ করে কৃষকদের লাভবান হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত টমেটো এবং হাইব্রীড টমেটোর চাষ করে বর্তমানে কৃষকরা সবচেয়ে বেশী লাভবান হচ্ছে। তবে ছদাহা এলাকার ফসলী জমিগুলোতে একের পর এক ইটভাটা গড়ে উঠায় আগামী কয়েক বছরে এই সফলতা হারিয়ে যাবে বলেও উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন কৃষি কর্মকর্তা।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [৪১৮] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।