শিরোনাম : সিয়াম সাধনার নানা প্রস্তুতি ।। কাল থেকে শুরু পবিত্র রমজান সব মূর্তি অপসারণ দাবি! ।। গ্রিক দেবীকে অন্য কোথাও স্থান দেয়া যাবে না : হেফাজত চট্টগ্রামে সাত লাখ প্রি-পেইড মিটার লাগানোর নির্দেশ ।। চারটি প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশন উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ।। বিদ্যুৎতের ক্রাইসিস যাচ্ছে তবে পরিস্থিতি ভালোর পথে ভাস্কর্য সরানো নিয়ে প্রতিবাদ পুলিশের লাঠি টিয়ার গ্যাস লেকে পানি স্বল্পতা ।। কাপ্তাইয়ে পাঁচ জেনারেটরের মধ্যে উৎপাদনে আছে একটি Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

২০ মে শনিবার ২০১৭ খ্রিঃ ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ সাল ২৩ শাবান ১৪৩৮ হিজরি
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

নগরীকে যানজটমুক্ত করতে কিছু পরিকল্পনা

ঋত্বিক নয়ন ।।

নগরীতে দিন দিন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। রয়েছে অসহনীয় যানজট। দুর্ঘটনা এড়াতে মোটরযান আইন থাকলেও তা তোয়াক্কা করছে না অনেকে। জনসাধারণের সচেতনতার অভাব, চালকদের অসতর্কতা, অবহেলা, আইন-কানুন না জানা, ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বহীনতা এবং আইন বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকাই এর মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একদিকে যেমন সাধারণ জনগণ ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন না, ঠিক তেমনি তা অনুসরণ করছেন না চালকরাও। এ অবস্থায় ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সকলের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও যানজটমুক্ত নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আগামী ২২ মে থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য আজাদীকে বলেন, আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন মেনে না চলার প্রবণতা বেশি। আমি মনে করি, ট্রাফিক সপ্তাহ প্রতি বছরই অন্তত একবার হওয়া উচিত। এবার ২২ মে থেকে ২৫ মে ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে আমরা সচেতনতামূলক বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। মূলত নগরবাসীকে সচেতন করতেই এ উদ্যোগগুলো নেয়া হয়েছে। রাস্তার মোড়গুলো যাতে যানজটমুক্ত রাখা যায়, মানুষ যেন জেব্রাক্রসিং দিয়েই রাস্তা পারাপার করে, বাম দিকের লেইনটা যেন ফাঁকা থাকে, এক রুটের গাড়ি যেন অন্য রুটে চলাচল না করেণ্ডএ ধরনের বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। সামনে রোজা। রোজার সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচলে কিছু সমস্যা প্রকট হয়।

তিনি বলেন, নগরীতে দশটি পুলিশ বক্স করা হবে। সেখানে ট্রাফিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন বক্তব্য, গান মাইকে বাজানো হবে। ইউনিফরমবিহীন সিএনজি টেক্সি আটক করা হবে। ইপিজেড, সল্টগোলা, বাদামতলীর মোড়, অলংকার, বড়পোল মোড়, টাইগারপাস, জিইসির মোড়, ষোলশহর ২নং গেট, বশরুজ্জামান চত্বর ও নিউমার্কেট এলাকার বক্সে ইউনিফরম থাকবে। চালককে ইউনিফরম কিনতে হবে। তাহলে মামলা থেকে রেহাই পাবে। একইভাবে হেলমেটবিহীন মোটর সাইকেল আটকের পর চালককে হেলমেট কিনে মাথায় পরতে হবে মামলা থেকে বাঁচার জন্য। ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ দিন পুলিশ লাইন মাল্টিপারপাস শেডে বিভিন্ন পরিবহনের ৩০০ জন চালক ও শ্রমিকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। ফলে অনেক সময়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। আবার যেসব স্থানে ফুট ওভারব্রিজ আছে, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে পথচারী পারাপারে ব্যবহৃত না হয়ে হকারদের প্রয়োজনে, কখনো আবার অসামাজিক কার্যকলাপে ব্যবহার হচ্ছে। ফুট ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পারাপারের চিত্র অহরহ দেখা যায়। এমনকি শিশু সন্তান কোলে নিয়ে অথবা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে অনেকে রাস্তা পার হচ্ছেন।

যাত্রী সংগ্রহে দুর্বার গতিতে লোকাল বাস, হিউম্যান হলারের ছুটে চলার দৃশ্য নিত্যদিনের। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাসগুলোর এমন বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এমনকি চোখের সামনে বাসগুলোর এমন প্রতিযোগিতা চললেও অনেক ক্ষেত্রেই নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশদের। এছাড়া রয়েছে ফিটনেসবিহীন লক্কড় ঝক্কড় গাড়ির ছড়াছড়ি। নির্ধারিত রুট পারমিটের রাস্তা ব্যবহার করার কথা থাকলেও মানছে না চালক। কোনো কোনো সড়কে গতিসীমা ১৫-২০ থাকলেও গাড়ি চলছে ৩০-৪০ কিলোমিটার গতিতে। হরহামেশা ওভারটেক করার চিন্তায় মগ্ন থাকতে দেখা যায় চালকদের। এছাড়া লক্কড়-ঝক্কড় লোকাল বাস, দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ মাঝারি যানবাহনগুলোর চালকরাও বাধেন না সিটবেল্ট। আবার যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার কাজ করছে হেলপার। ফলে বাড়ছে যানজট আর ভোগান্তি। এছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্য করে উচ্চস্বরে বাজাচ্ছেন গাড়ির হর্ন। স্থানভেদে শব্দসীমা নির্ধারণ করা থাকলেও তা তোয়াক্কা করছেন না চালকরা। বাড়ছে শব্দদূষণ আর অতিষ্ঠ হচ্ছে নগরবাসী। আবার যানজটের কারণে নগরীর রাস্তাগুলোতে যানজট এড়াতে প্রায়ই বিপরীত দিক দিয়ে (রং সাইড) প্রভাবশালী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বহনকারী গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সিগন্যাল লাইট থাকলেও তা রয়েছে অকার্যকর।

চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশটি নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, জিপ এবং বাস, ট্রাক এবং মোটর সাইকেল মিলে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক নতুন গাড়ি রাস্তায় নামছে। বছরে গড়ে দশ হাজারেরও বেশি নতুন গাড়ি রাস্তায় নামছে। কিন্তু সেই তুলনায় রাস্তা বাড়েনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে নতুন কোন রাস্তা তৈরি হয়নি। আগেকার রাস্তা যা ছিল তারও একটি বড় অংশ প্রতিদিনই বেদখল হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে গেছে অনেক আগে। এখন বাড়তি গাড়ির পার্কিং চাপে রাস্তার অর্ধেক চলে যাচ্ছে। রাস্তায় যত্রতত্র রাখা হচ্ছে গাড়ি। অপরিকল্পিতভাবে রাখা এসব গাড়ির কারণে নগরজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। ফলে দুর্ভোগে পোহাতে হয় পথচারীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টাও রাস্তায় কাটাতে হয় তাদের। তবে রাস্তায় থাকা এসব গাড়ির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে অসহায় ভূমিকা পালন করছে ট্রাফিক বিভাগ। রাস্তায় রাখা গাড়ির মালিকেরা স্থানীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এছাড়া সঠিক পরিকল্পনাহীন ভবন ও মার্কেট নির্মাণ, মার্কেটে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা, ফুটপাতে গাড়ি রাখা, যত্রতত্র গাড়ি রাখার ফলে নগরজুড়ে এক ভয়াবহ অবস্থা চলছে।

যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকাল, এর পর সন্ধ্যা গড়াতেই স্থির হয়ে যায় পুরো নগরী। শম্ভুক গতিতে চলতে চলতে কোনোমতে গন্তব্যে যেতে হয় যাত্রীদের। এভাবেই চলছে নগরীর যানবাহন। সঙ্গে যোগ হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ, দুর্বিষহ ভোগান্তি আর সময়ের অপচয়। বিশেষ করে সপ্তাহের পাঁচদিন চট্টগ্রামের রাস্তাগুলোতে ট্রাফিকের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অপরিকল্পিত চলাচল ও ব্যবস্থাপনাজনিত ত্রুটি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। দিনের বেলায় কিছু যানজট হচ্ছে রাস্তার পাশে স্কুল-কলেজ থাকা ও রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে। আবার অনেক প্রশস্ত সড়কের পাশে বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফলে চলাচলের রাস্তা আরো সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে এসব রাস্তায় গাড়ি চলে ধীরগতিতে, যা যানজটের অন্যতম কারণ। আবার সন্ধ্যায় কিছু যানজট হচ্ছে, একই সাথে সব ট্রাক নগরীতে প্রবেশের কারণে। একসাথে অনেক ট্রাক নগরীতে প্রবেশের সময় জিইসি মোড়ে যে যানজটের সৃষ্টি হয়, তা মুরাদপুর-বহদ্দারহাট এবং অন্যদিকে টাইগারপাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। নগরীতে যানজট সৃষ্টির জন্য যানবাহনের তুলনায় পরিকল্পিত সড়কের অভাব এবং টার্মিনালের অভাবকে দায়ী করেছেন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা। তাছাড়া সন্ধ্যার পর জেলা থেকে ট্রাকগুলো নগরীর উপর দিয়ে অন্যত্র যাওয়াটাকেও দায়ী করছেন তারা। ট্রাফিক বিষয়ক আইন আর শাস্তি নির্ধারণ করা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। একদিকে মানছেন না চালকরা, অন্যদিকে এসব আইন বাস্তবায়নে তৎপরতার অভাব দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশদের।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [৫৭৬] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।