শিরোনাম : এইচ এস সি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল জানতে ক্লিক করুন এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের ওয়েবসাইট চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৬১.০৯, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৯১ Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

২০ মে শনিবার ২০১৭ খ্রিঃ ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ সাল ২৩ শাবান ১৪৩৮ হিজরি
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

বাঁশখালীতে প্রধান বিচারপতি ।। অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন দরকার

বাঁশখালী প্রতিনিধি ।।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্‌হা বলেছেন, এদেশে বিচার ব্যবস্থা সাধারণ জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ জনগণ যাতে তাদের ন্যায় বিচার পায় সেজন্য বাঁশখালীর মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে চৌকি স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি গতকাল শুক্রবার বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা ও নব নির্মিত আদালত ভবন পরিদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেটার স্বপ্ন দেখেছিলেন- একটা কল্যাণকর রাষ্ট্র করার জন্যে। আমরা ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশদের পরাধীন ছিলাম, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিদের পরাধীন ছিলাম। আমাদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা কোনোটাই ছিল না। এটা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং এই স্বাধীনতা। জনগণকে এই স্বাধীনতা ভোগ করতে হলে একটা কল্যাণকর রাষ্ট্রের দরকার। এই যে উন্নতি, এই উন্নতিটা কোনো মতেই স্বীকৃতি পাবে না দেশের ন্যায় বিচার যদি প্রতিষ্ঠা না হয়।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বেসিক তিনটা জিনিস যখন পূরণ হয়ে যায়, এরপরই মানুষ চিন্তা করে আমার অধিকারের নিশ্চয়তা থাকল কি না। আমার জান-মাল-সম্পদের, চার নম্বর যেটা অধিকার। এটা আমাদের সংবিধানেরই একটা মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন দরকার।’

প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণকে বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারকরা আপনাদের অতিথি। তাদের সুরক্ষা করা এবং নিরাপত্তা দেয়া আপনাদেরই কর্তব্য। বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যত বেশি নিরাপত্তায় থাকবেন ততবেশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি কোন অপরিচিত লোক যাতে আদালতে অযথা প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকাসহ প্রশাসনকে অবহিত করার আহবান জানান। বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট যতীন্দ্র লাল সুশীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেলাল চৌধুরী, বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ মোঃ শাহেনুর, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী, বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সি মোঃ মশিয়ার রহমান, বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট একিউএম নাছির উদ্দীন প্রমুখ। বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এডভোকেট বিকাশ রঞ্জন ধর, এডভোকেট নুরুল আবছার, এডভোকেট দিলীপ কুমার দাশ, এডভোকেট দীপংকর দে, এডভোকেট ও কালীপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আ ন ম শাহাদত আলম, এডভোকেট এস.এম তোফাইল বিন হোসাইন, এডভোকেট মুজিবুল হক, এডভোকেট শ্রীকণ্ঠ দাশ, এডভোকেট তকছিমুল গণি ইমন, এডভোকেট অসীমা দেবী প্রমুখ। বাঁশখালী আদালতের নব নির্মিত ভবন অচিরেই যাতে সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনজীবীদের বসার জন্য বারের ব্যবস্থা করবেন বলে প্রধান বিচারপতি আশ্বস্ত করেন। পরে তিনি বাঁশখালীর বর্তমান আদালতের টিনশেড ভবনটি পরিদর্শন করেন।

কালীপুর ঋষিধামে প্রধান বিচারপতি :

বাংলাদেশের অন্যতম ধর্মীয় পুরোধা যুগাবতার শিবকল্পতরু শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের ১১৫ তম আবির্ভাব তিথি ও পুনঃনির্মিত শ্রীগুরু মন্দিরের উদ্বোধন গতকাল বাঁশখালীর কালীপুরস্থ কোকদণ্ডী ঋষিধামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন ঋষিধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শানানন্দ পুরী মহারাজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্‌হা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। শ্রীগুরু সংঘের সভাপতি লায়ন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহের সভাপতিত্বে ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেলাল চৌধুরী, মহানগর দায়রা জজ মোঃ শাহেনুর, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সি মশিয়ার রহমান, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট একিউএম নাছির উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ নজরুল ইসলাম, জজ মোঃ আবু হান্নান, চট্টগ্রাম জজ কোর্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র দাশ, বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোঃ চাহেল তস্তরী, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর, শ্রীগুরু সংঘের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দেব, কালীপুর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান এড. আ ন ম শাহাদত আলম, বৈলছড়ি ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান কফিল উদ্দীন, বাঁশখালী পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ গুহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্‌হা বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে শতভাগ গণতান্ত্রিক দেশ। যেখানে নব্বই ভাগ মুসলিম সম্প্রদায় হয়েও আমাদের মত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোককে প্রধান বিচারপতির মত মহান দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির জনকের স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ অনেকে এগিয়ে গেছে। কিছু অতি উৎসাহী লোক ধর্মের নামে সাধারণ জনগণকে বিপথে পরিচালিত করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। সে ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসন নয় জনগণকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান যে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে তা এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হবে। তিনি বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানকে চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাঁশখালীর প্রচুর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বাঁশখালীর জনগণ আপনার প্রতি আন্তরিক। এটা আরো বেশি কাজে লাগিয়ে এলাকায় সম্প্রীতি সৃষ্টির আহবান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, আজকেই বাঁশখালীতে যে সম্প্রীতি পরিল িত হচ্ছে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না আজ থেকে ক’বছর আগে বাঁশখালীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১১ জনকে পুঁড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রত্যেক ধর্ম শান্তির কথা বলে। যারা অপব্যাখ্যা দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা কোন ব্যক্তি মালিকানার হতে পারে না বলে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে যে শত্রশু সম্পত্তির কথা উঠে আসছে সেটা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি সকলের প্রতি সম্প্রতি বজায় রেখে নিজেদের আচার অনুষ্ঠান পরিচালনা করার আহবান জানান। পরে তিনি মন্দিরের উদ্বোধন করেন।

বাঁশখালী পূজা পরিষদের সম্মাননা প্রদান:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্‌হাকে সম্মাননা প্রদান করেছেন বাঁশখালী পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা। গতকাল (শুক্রবার) বাঁশখালীর কালীপুরস্থ কোকদণ্ডী ঋষিধামে যুগাবতার শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের ১১৫ তম আবির্ভাব তিথি ও পুনঃনির্মিত শ্রীগুরু মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্‌হাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাঁশখালী পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ গুহ, পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপদেষ্টা টুটুন চক্রবর্তী, ঝুন্টু কুমার দাশ, তড়িৎ কান্তি গুহ, দিলীপ দত্ত, নান্টু কুমার দেব, শেখর চৌধুরী, বাসুদেব রুদ্র, সাংবাদিক সৈকত আচার্য্য, সুজন কান্তি দেব, সাগর সুশীল, বিশ্বজিৎ সুশীল, নারায়ণ মল্লিক, অসীম দেব, রিপন ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [৪২২] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।