শিরোনাম : সিয়াম সাধনার নানা প্রস্তুতি ।। কাল থেকে শুরু পবিত্র রমজান সব মূর্তি অপসারণ দাবি! ।। গ্রিক দেবীকে অন্য কোথাও স্থান দেয়া যাবে না : হেফাজত চট্টগ্রামে সাত লাখ প্রি-পেইড মিটার লাগানোর নির্দেশ ।। চারটি প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশন উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ।। বিদ্যুৎতের ক্রাইসিস যাচ্ছে তবে পরিস্থিতি ভালোর পথে ভাস্কর্য সরানো নিয়ে প্রতিবাদ পুলিশের লাঠি টিয়ার গ্যাস লেকে পানি স্বল্পতা ।। কাপ্তাইয়ে পাঁচ জেনারেটরের মধ্যে উৎপাদনে আছে একটি Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

২০ মে শনিবার ২০১৭ খ্রিঃ ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ সাল ২৩ শাবান ১৪৩৮ হিজরি
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

চসিকের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্রে ২৪ লক্ষ্য ।। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ করাসহ নানা পরিকল্পনা, কাল সাধারণ সভায় উত্থাপন

মোরশেদ তালুকদার ।।

নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং জলবাযু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য বিপর্যয় ও রোগ ব্যাধির গতি প্রকৃতি লক্ষ্য রেখে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় উদ্ভাবন করাসহ ২৪টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও অত্যাধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় প্রণীত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কৌশলপত্রে।

আগামীকাল রোববার চসিকের সাধারণ সভায় ২১ অধ্যায় ও ৯২ পৃষ্ঠার এ কৌশলপত্র উপস্থাপন করা হবে। সভায় অনুমোদন পেলে এই কৌশলপত্রের আলোকেই চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলছেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৫০ বছরের ইতিহাসে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কৌশলপত্রের অভাবে স্বাস্থ্য বিভাগে নানা বিশৃঙ্খলা ছিল। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে কর্মরতদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছিল। এই কৌশলপত্র তা প্রশমন করবে। চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)ডা. মোহাম্মদ আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো কৌশলপত্র ছিল না। নির্দিষ্ট একটি অবকাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এখন একটি যুগোপযোগী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণ সভায় অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন এবং একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবধর্মী নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি বিধায়, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশনায় এই মহানগরীতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকল্পে একটি নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রস্তাবিত কৌশলপত্র কোনোভাবেই জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি, স্থানীয় সরকার আইন, জাতীয় বেতনস্কেল নীতিমালা, সরকারি কর্মচারীর বিভিন্ন বিধি বিধান সম্পর্কিত নীতিমালার কোনোটির সাথে সাংঘর্ষিক হবে না।

চসিক প্রণীত ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কৌশলপত্র’ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী, ‘নগরের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন নিতে হবে’। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চসিকের অনুমোদন নেই। এছাড়া বর্তমানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে চসিকের পাশাপাশি অনেক সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাষিত, বেসরকারি ও স্বেচ্ছ্বাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সেবা দানের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় বা জবাবদিহিতা নেই। অনেক সংস্থা জনগণের স্বাস্থ্য সমস্যা বিবেচনায় না নিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রয়াসে লোক দেখানো সেবা প্রদানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নগরের স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি, বিএমএ, গণমাধ্যম এবং উন্নয়নকর্মীর সমন্বয়ে ‘নগর স্বাস্থ্য সমন্বয় পরিষদ’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে প্রণীত কৌশলপত্রে। মূলত এ কমিটিই চসিক অ্যাক্ট মেনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মনিটরিং এবং বিচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে সমন্বয় করবে।

এছাড়া ‘নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি’, ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’ এবং ‘ওয়ার্ড স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন এবং এসব কমিটি গঠনের ধরন, দায়িত্ব-কর্তব্যও উল্লেখ করা হয় কৌশলপত্রে। শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেও বিভিন্ন সুপারিশ রয়েছে এ কৌশলপত্রে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসমূহ : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজসহ অত্যাধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করাসহ ১৫টি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় প্রণীত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কৌশলপত্রে। অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি রোগ নির্ণয় করার জন্য একটি অত্যাধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন। চসিকের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত এনআইসিউ, সিসিউ, আইসিউ ও এইচডিও স্থাপন করা। পোড়া রোগীদের জন্য আধুনিক সুবিধা সম্বলিত বার্ন ইউনিট চালু করা।

এছাড়া চসিকের মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউটে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্স এবং ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যাটসে বিএসসি কোর্স চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ইপিআই কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য ভ্যাকসিন সংরক্ষণে এবং সরবরাহের জন্য চসিকের আধুনিক কেন্দ্রীয় ভ্যাকসিন সংরক্ষণাগার, আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ব্ল্যাড ব্যাংক স্থাপন, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ট্রমা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

১৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম : ১৮৬৩ সালের ২২ জুন চারটি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালের যাত্রা। কালের বিবর্তনে সেই ছোট্ট পৌরসভা চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন হয়ে আজকের সিটি কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বল্প পরিসরে নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল চসিক। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদকালে এ পরিসর বৃদ্ধি পায়। কিন্তু নির্দিষ্ট কৌশলপত্র ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিল স্বাস্থ্যসেবা।

সর্বশেষ বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট চসিক পরিচালিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে করণীয় নির্ধারণ এবং হাসপাতালগুলোর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে চসিকের স্বাস্থ্যবিভাগ ২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট একটি প্রতিবেদন দেয় মেয়রকে। এই প্রতিবেদনের আলোকে মেয়র একটি স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেন এবং চসিকের সচিব আবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। কমিটি গত ১৫ জানুয়ারি মেয়রের কাছে স্বাস্থ্যনীতির খসড়া হস্তান্তর করে।

ওইদিন স্বাস্থ্যনীতির খসড়া যাচাই করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেলিম জাহাঙ্গীরকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন মেয়র। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী। মূলত এই কমিটিই চূড়ান্ত করে কৌশলপত্র। গত ১৮ মে চসিকের শিক্ষা স্বাস্থ্য স্ট্যান্ডিং কমিটি এ কৌশলপত্রের অনুমোদন দেয়।

উল্লেখ্য, চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন ৪টি মাতৃসদন হাসপাতাল, ১টি জেনারেল হাসপাতাল, ২০টি দাতব্য চিকিৎসালয়, ১টি খতনা কেন্দ্র, ১টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও ৯টি হোমিওপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয় রয়েছে। প্রতি মাসে চসিকের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে গত অর্থবছরে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৮শ ৬ জন সেবা নিয়েছেন, যা ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ছিল ৮ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭৩০ জন। এছাড়া গত অর্থবছরে ১১শ ৫ জনের সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়। নরমাল ছিল ২ হাজারটি। চসিক স্বাস্থ্য বিভাগে ৭৯টি ক্যাটাগরিতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৮৯ জন। গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে চসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫০ লক্ষ টাকা ভর্তুকি দেয় এবং চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ কোটি টাকা।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [৩২০] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।