শিরোনাম : সিয়াম সাধনার নানা প্রস্তুতি ।। কাল থেকে শুরু পবিত্র রমজান সব মূর্তি অপসারণ দাবি! ।। গ্রিক দেবীকে অন্য কোথাও স্থান দেয়া যাবে না : হেফাজত চট্টগ্রামে সাত লাখ প্রি-পেইড মিটার লাগানোর নির্দেশ ।। চারটি প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশন উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ।। বিদ্যুৎতের ক্রাইসিস যাচ্ছে তবে পরিস্থিতি ভালোর পথে ভাস্কর্য সরানো নিয়ে প্রতিবাদ পুলিশের লাঠি টিয়ার গ্যাস লেকে পানি স্বল্পতা ।। কাপ্তাইয়ে পাঁচ জেনারেটরের মধ্যে উৎপাদনে আছে একটি Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

১৪ আগস্ট মঙ্গলবার ২০১২ খ্রি. ৩০ শ্রাবণ ১৪১৯ সাল ‌২৫ রমজান ১৪৩৩ হিজরি
চট্রগ্রাম
তাপমাত্রা: ২৭ সে | আর্দ্রতা: ৯৮%

বিক্ষোভে কোচিং সেন্টারগুলোর ইন্ধন রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ খ ম রুহুল হক ।। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ভোট দিয়েছেন (১৫১) জন।
হ্যাঁ না মন্তব্য নেই
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

যুবলীগের কেমন নেতৃত্ব হলো? ।। অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

সম্প্রতি যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী আর সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ। দুজনই আমার পূর্ব পরিচিত এবং অনেক সময়েই এক সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনগণের ক্ষমতায়ন বিশ্বশান্তির মডেল নিয়ে কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠ করে অনেক বিষয়ের মধ্যে এটুকুও উপলব্ধি করেছি যে সংগঠন এবং নেতৃত্ব দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। সর্ব যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আদর্শবাদী এবং আত্মত্যাগী রাজনৈতিক নেতা আর বাঙালি জাতিকে স্বাধীন করতে সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। জাতির পিতার নির্দেশে এবং তাঁরই আদর্শে যুব নেতা শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগ গড়ে তোলেন। সংক্ষেপে বলা চলে যে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগ সুসংগঠিত হয়েই এগিয়ে চলেছে। সদ্য প্রাক্তন নেতা নানক, আজম এবং ওমর ফারুক চৌধুরী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গত নয় বছর সংগঠনটির সাংগঠনিক তৎপরতা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিতে সক্ষম হয়েছে। তারা যুবলীগকে যে পর্যায়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন তাতে বলা চলে যুবলীগের বিকল্প হচ্ছে যুবলীগ।

স্বাভাবিক কারণেই তাই ভেবে দেখতে হবে যে এখন সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং কর্তব্য হচ্ছে সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী রাখলেই যথেষ্ট নয়, বরং সাথে সাথে সংগঠনটি যেন দেশরত্ন শেখ হাসিনার চিন্তা চেতনা ধারণ করতে পারে এবং নেত্রীর রাজনৈতিক দর্শন, জনগণের মধ্যে পৌছে দিতে পারে। সাথে সাথে যুবলীগের নেতা কর্মীদের মনে রাখতে হবে যে ২০১৪ সালের প্রথম দিকের মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জনগণের নিকট থেকে ম্যান্ডেট নিতে হবে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য। জননেত্রীর কথা বললাম এ জন্য যে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে নির্বাচনী মোর্চা মূলত জনগণকে ভোট দিতে উদ্বুব্ধ করতে হবে নেত্রী শেখ হাসিনার নামে।

এমতাবস্থায় যুবলীগের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ওমর ফারুক চৌধুরী যিনি গত তিন বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁর সুনাম বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জননেত্রীর চিন্তাধারা অনুধাবনের ক্ষমতা ঈর্ষনীয় (যারা ওমর ফারুককে কাছে থেকে চেনেন, তারা জানেন) । ওমর ফারুক চৌধুরী সুশিক্ষিত, মার্জিত, হাসি খুশী বাস্তববাদী এবং অনেক সময় হঠাৎ রেগে যেতে (অন্যের সাথে, আমার সাথে নয় কেননা সে হচ্ছে অনুজ প্রতিম এবং সকল সময় আমাকে অগ্রজের সম্মান দেন কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই) দেখলেও কর্মীদের প্রতি তার রয়েছে গভীর মমত্ববোধ। জোর গলায় খুব স্পষ্টভাবে বলেন রক্তের বাঁধন নয়, আত্মার সাথে যিনি সম্পর্কিত তিনিইতো আত্মীয়। সেই আত্মীয় হচ্ছে রাজনৈতিক আদর্শের কর্মীরা। স্ত্রীর সাথে কি রক্তের বাঁধন আছে? আত্মার সাথেইত সম্পর্কিত। যুবলীগের বর্তমান পর্যায়ে ওমর ফারুক এর বিকল্প আমাদের অনেকেরই চোখে পড়েনি। তার রাগ দেখেছি। পরশ্রীকাতরা সহ্য করতে না পারা। যা বাঙালীর ঐতিহ্য। শত্রু সম্পর্কেও কটুক্তি করে না, অভিযোগ করা পছন্দ করে না। তাঁর শত্রু সম্পর্কে আলোচনায় যোগ দেন না। চুপচাপ থাকেন এবং অন্য মনস্ক। আমরা সাধারণত শত্রুকে দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নেই। তার মধ্য এটা দেখি না। জিজ্ঞেস করায় বলল: অভিযোগ না করিলে সহানুভূতি পাওয়া যায় না। আবার অভিযোগ করিয়া সহানুভূতির পাওয়ার নাম করুণা। আমি করুণার পাত্র হতে চাই না।

সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তি। লেখাপড়ায় তার ব্যুৎপত্তি নজর কাড়ার মতো। নিয়মিত যুবলীগ অফিসে বসে কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখলে তার সুনাম স্থায়ী হবে।

আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী শেখ পরিবারের আত্মীয় হিসেবে যুবলীগের সভাপতি হয়েছেন বলে যারা মনে করেন তারা বোধ হয় ওমর ফারুককে রাজনৈতিকভাবে চেনেন না। নিজ যোগ্যতায় মাঠ পর্যায় থেকে ওমর ফারুক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে উঠে এলেন। স্বাধীনতার আগে ছাত্রলীগ, যুবলীগের প্রতিষ্ঠালগ্নের সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই যুবলীগ নেতা। দেখেছি তার কথা বার্তায় রাজনীতি করতে হলে স্বপ্ন থাকতে হবে, বাস্তব জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে, সফল ব্যবস্থাপক হতে হবে। দূরদর্শিতা এবং প্রজ্ঞার সমন্বয়। প্রতিটি কর্মে দেখেছি ঈর্ষা নেই,কাউকে বাদ দিতে পারবে না। এই শব্দগুলো জোরগলায় বলা। কেউ কারও ব্যাপারে নাক গলালেই ভিন্ন এক মানুষে রূপান্তরিত হতে দেখেছি। দেখেছি আর অবাক বিস্ময়ে হতভাগ হয়েছি। স্পষ্টবাদী এই মানুষটিকে? নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করেছি। ভেবেছি এও হয়!

একবার জিজ্ঞাসও করেছিলাম আমরা সাধারণত নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে চাই, নিজেকে প্রকাশ করতে চাই। আমি-আমি-আমিই সর্বেসর্বা। এ কাজটিইত সবাই করি। নেতা হতে সবাই চাই। উত্তর দিল নেতা কত প্রকারও কি কি? অথবা সর্বোত্তম নেতা কে? সেই নেতাই সর্বোত্তম যার অস্তিত্ব মানুষ মোটেও টের পায় না। যখন তার কাজ সম্পাদিত হয়। লক্ষ্য অর্জিত হয়। তখন জনগণ বলে, আমরা নিজেরাই কাজটি করেছি। সেই নেতাই হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা সবাই মনে করি আমরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন করেছি আমরা। আর নেতা? জিজ্ঞেস করেছিলাম ঈর্ষা পরিহার করার উপায় কি? উত্তর বাঙালীর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওনা আমি যখন আনন্দিত আমার বন্ধুরা হয় উদ্বিগ্ন আবার আমি যখন উদ্বিগ্ন আমার বন্ধুরা হয় আনন্দিত। এটি জানা থাকলে এবং বড় বড় করে বললেই ঈর্ষা দূর হয়ে যাবে। আমি একজন ডাক্তার হয়েও এত সাধারণ কথাটি জানিনা তাই আমি নিজেকেই ধিক্কার দিলাম।

এই নতুন টীম যে সফলতা অর্জন করবে, এতে দ্বিধা দ্বন্দ্বের কোন অবকাশ আছে বলে মনে করি না।

বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফর রহমান বলেছিলেন আর একটা কথা মনে রেখ, ’Sincerity of propose and honesty of propose’ থাকলে জীবনে পরাজিত হবে না।এই যে আন্তরিকতা এবং সততা সারা জীবন বঙ্গবন্ধু ধারণ এবং বাহন করে গেলেন, সেটি টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই যুবলীগের নেতৃত্বে যারা থাকবেন তাদের বিষয়ে বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। আমি জেনেই এবং বুঝেই বলতে পারি ওমর ফারুক এবং হারুন এর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর এ আদর্শ বজায় রাখতে তাদের কোন ক্রুটি হবে না।

যে নেত্রীর নেতৃত্বে পথ চলতে হবে তার রাজনৈতিক জীবন কি ভাবে শুরু হয়েছে এটি জানা থাকলে যাত্রা পথে মনের জোর পাওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ সংগঠন শক্তিশালী করার সময় দুই চার জন কমিউনিস্ট ভাবাপন্ন ছাত্রদের বলেছিলেন ুজনসাধারণ চলেছে পায়ে হেঁটে, আর আপনারা আদর্শ নিয়ে উড়োজাহাজে চলছেন। জনসাধারণ আপনাদের কথা বুঝতেও পারে না আর সাথেও চলবে না। যতটুকু হজম করতে পারে এতটুকু জনসাধারণের কাছে পেশ করা উচিত।

বর্তমানে জননেত্রী তার বক্তব্যে এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের কথাই মনে রাখেন। ওমর ফারুক এবং হারুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ বিশ্বশান্তির মডেল নিয়ে কাজের সাথে জড়িত। ওমর ফারুক কত দেশ বিদেশে এ নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাই তিনি জনগণকে সাথে নিতে তার সহকর্মীদের বেশ সহজ ভাবেই উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ দেশ বিদেশে কাজ করার সৌভাগ্য আমারও হয়েছে। দেশে দেশে আমিও এই যুবলীগের গবেষক দলের একজন হিসেবে খুব কাছে থেকে দেখে অবাক হয়ে যেতাম। ড. আবুল বরকত বলত শেখ হাসিনার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’-এটি ওমর ফারুকের ‘ব্রেইন চাইল্ড’। মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখতাম আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ওমর ফারুক যখন সিদ্ধান্ত নিতেন তা সবাই মানত। নানকের ভাষায়- ওমর ফারুক ‘থিংক ট্যাংকার’। তাই একসময় জিজ্ঞেস করেছিলাম, আচ্ছা সফলতার চাবিকাঠি কি? খুব সহজ সরল ভাষায় ওমর ফারুক বললেন-সফল হতে হলে যে কোনদিন পরাজিত হয়নি, সে কোনদিন বিজয়ী হতে পারবে না। সফলতা লাভ করার গোপন কথাটি তারাই জানে, যারা বিফলতা লাভ করেছে। সাফল্য একটাই নিজস্ব ধারায় জীবনযাপন করতে পারা। আজম বলত-আমি বগি, ইঞ্জিন যেদিকে যাবে আমিও সেদিক। বোরহান বলত-ওমর ফারুক দার্শনিক। জিজ্ঞেস করলাম-এতো সত্য এবং বাস্তব কথা কেমন করে বলে? উত্তরে বলল শেখ হাসিনার দর্শন। দর্শন প্রচার করছেন অথচ শেখ হাসিনার জীবনাদর্শ, দর্শন চাল চলন, সফলতা, ব্যর্থতা পর্যালোচনা করলেইত হয়ে যায়।

যুবলীগের গবেষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওমর ফারুক। কারণ তিনি তখন যুবলীগের সদ্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েই এ Global peace role of sheikh hasina peoples employment এ তথ্যটি নিয়ে মাঠে নামলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় প্রতিমন্ত্রী। মির্জা আযম সাধারণ সম্পাদক যুবলীগের। জাতীয় সংসদের দুইবারের হুইপ, চারবার সংসদ সদস্য। আমিও একজন ঐ টিমের সদস্য। পৃথিবীর ১৭টি রাষ্ট্রে আমরা সভা, সেমিনার করেছি। রাতে আমাদের আলোচনা-পর্যালোচনা হত। আলোচনা-সমালোচনা-মূলতবি ঘোষণা না করে সবসময় ছোটখাট সিদ্ধান্ত হলেও নিতে হত। ঐ টিমে অধ্যাপক ড. আবুল বরকত, . সাদেকা হালিম, সৈয়দ বোরহান কবীর, ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী(অভি) ছিলেন। আমরা ছিলাম ওমর ফারুকের সাথে দৃশ্যত ওমর ফারুক, বোরহান আর অভির মেইলের মাধ্যমে সংযোগটি যে ছিল অনেক দূরের অনেক অনেক জ্ঞানী গুণীজনদের, তাদের নাম আজ না হয় নাই বললাম। কাজটি ছিল কঠিন। এই কঠিন কাজটি সেতু-বন্ধ তৈরী করেছিল ওমর ফারুক। হাজার মাইল আকাশে উড়েছি, রাতে চলত আড্ডা। তাই কাছে থেকে ওমর ফারুককে দেখা। যে দেশে গিয়েছি সেই দেশেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা বিমানবন্দর, হোটেল, সভা, সর্বত্রই তাদের আনাগোনা, ভিড়ভাট্টা। যতই ঘুরতাম ওমর ফারুককে নতুন করে চিনতাম। একদিন জিজ্ঞেস করলাম, যোগ্যতা বলতে কি বুঝ? সহজ ভাবেই বলল, যোগ্যতা মানে নিজের যোগ্যতাকে লুকিয়ে রাখতে পারাই হল বড় যোগ্যতা।’ প্রশ্ন ছিল তোমার ‘যোগ্যতা কি মনে কর? উত্তর নানক-আজমকে এক ও অভিন্ন রাখা। আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। এত স্পষ্টও সহজ কথা আমারও ভাবনায় কখনও আসেনি। আমিও নিজেকে ভাবি আমি একজন সহজ সরল মানুষ। মানুষও আমাকে বলে। কিন্তু এ কেমন সহজ সরলতা? জিজ্ঞেস করলাম এক ও অভিন্ন হওয়ার কৌশল কী? উত্তর: সংসারে এক ও অভিন্ন হওয়ার উপায়, স্ত্রীকে অন্ধ এবং স্বামীকে বধির হলেই এক ও অভিন্ন হওয়ার সহজ উপায়। দলেও তাই। সভাপতি বা চেয়ারম্যানের সাথে জেনারেল সেক্রেটারি এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলেই হয়। সিদ্ধান্ত একজন দিলে অন্যজন তা মানলেই হয়। জিজ্ঞেস করলাম ভাগ্য বলতে কি বুঝ। উত্তর দিল পূর্ব প্রস্তুতি। আজ তাই মনে হয় ওমর ফারুক তোমার পূর্ব প্রস্তুতি অনেক দিনের- অনেক বছর আগের। তুমি অদ্বিতীয়। তিন বছর আগে ভারপ্রাপ্ত হওয়ার পর দেখলাম হঠাৎ করে প্রতিটি দিবসে ‘যুবলীগের সাপ্লিমেন্ট’। প্রচার সেলকে নিয়ে গেল নতুন মাত্রায়। দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার না দিয়ে দৈনিক পত্রিকা বিজ্ঞাপন। সত্য মিথ্যার প্রভেদ। গ্রাম থেকে ইউনিয়ন, থানা থেকে জেলায়। দেশ থেকে বিদেশে, ইন্টারনেটে।

এক মহিলা কর্মী হঠাৎ পুরুষ সম্পর্কে কটুক্তি করায় সবার সামনে ওমর ফারুক বলল-মেয়েরা অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতু, পুরুষেরা বর্তমানের সঙ্গে ভবিষ্যতের। আবার ঐ পুরুষেরা যখন মহিলা নিয়ে কটাক্ষ করল,বলল, মেয়েরা মিথ্যাবাদী ও হামবড়া পুরুষদের বেশি পছন্দ করে। সত্যবাদী পুরুষকে মেয়েরা বোকা বলে মনে করে। তোমরা বোকা হওয়ার চেষ্টা কর। তাহলে শান্তি পাবে। এই বোকা মানুষটিকে ঘরের বউ অন্তত সন্দেহ করবে না। আমি বললাম তুমি প্রতিভাবান। উত্তর দিল ৯৯ ভাগ পরিশ্রম আর ১ ভাগ অনুপ্রেরণার সম্মিলিত রূপই প্রতিভা। পরকে আপন করাই প্রতিভা।

আমি ডায়েরি উল্লেখ তার অনেক কথা খুঁজে পাই। এই মানুষটি সম্পর্কে অনেক কথায় বলা যায়। এক কথায় ব্যতিক্রম এক নেতা-কর্মী। নেতা বললে বলে আমি ম্যানেজার হতে চাই। কি জেনারেল ম্যানেজার? না প্রডাকশন ম্যানেজার হতে চাই। এটুকু বলতে পারি-যাত্রা হল শুরু, ওগো নমস্কার।

যে নেত্রীর নেতৃত্বে তাদের সংগঠন চালাতে হবে সেই নেত্রীর রাজনৈতিক উত্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্থানের কয়েকটি ঘটনা খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করছি।

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধু তখনকার মুজিব ভাই হিসেবে চিকিৎসা নিতে আসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কেবিনে। সেখানে বসেই তিনি ভাষা আন্দোলন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ইতি টানার জন্যে তাকে ফরিদপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫ই ফেব্রশুয়ারী বঙ্গবন্ধু ফরিপুরের জেলে বসে হাঙ্গার স্টাইক করেন এবং এর ফলে মৃত্যু পথযাত্রী হলে, বাধ্য হয়ে ২৮শে ফেব্রুয়ারী তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তখনকার দিনে ফরিদপুর থেকে গোপালগঞ্জ যেতে সময় লাগত ২/৩ দিন। তবে পাঁচদিন পরে বঙ্গবন্ধু বাড়ি পৌঁছালে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা পিতার গলা ধরে প্রথমেই বলল,“আব্বা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই”। স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৫ বছর বয়সের শিশুরা এতদিন পরে নিজের পিতাকে কাছে পেয়ে বলার কথা, “আব্বু তুমি এতদিন কোথায় ছিলে, তোমাকে খুব মিস করেছি; ইত্যাদি”। কিন্তু শেখ হাসিনার শরীরের প্রতিটি কোষে রাজনীতি বিজড়িত, তাই তার মুখ থেকে রাজনীতির কথা শুরু হয় ৫ বছর বয়স থেকেই। এর পরে ১৯৬২ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা দেখতে পাই আজিমপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী নেত্রী হিসেবে শরীফ কমিশন (হামিদুর রহমান রিপোর্ট) এর শিক্ষা নীতির বিরূদ্ধে আন্দোলনে বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ছাত্র সভায় মিছিল সহ যোগ দিত। ৬ দফার ম্যান্ডেট গ্রহণ করেন তখনকার সরকারি ইন্টারমিডিয়েট (বর্তমান বদরুন্নেসা কলেজ) কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হয়ে। শেখ হাসিনা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে আমরা অনেকেই মেয়েদের মধ্যে ছাত্রলীগ সংগঠন দুর্বল হওয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে অনুরোধ করি। তখনকার গভর্নর মোনায়েম খান ঘোষণা দেন, “শেখ মুজিবের মেয়ে ভিপি হলে তা ৬ দফার ম্যান্ডেট হবে”। সেই নির্বাচনে নেত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। অর্থাৎ ৬ দফার ম্যান্ডেট গ্রহণকারী প্রথম ব্যাক্তি। এই ৬ দফার সাথে ছাত্রদের দাবী দাওয়া যোগ করে ১১ দফা করা হয়। ৬৯ গণঅভ্যুথান থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ সহ সবখানেই নেত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নীরব বা সরব, সংহত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যার পর আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশে ফেরেন ১৯৮১ সালের মে মাসে। দেশে ফিরে দেখতে পান জনগণ অধিকার হারা, দেশে তখন ও কারফিউ বলবৎ। জননেত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার অনেকটাই ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। ভুললে চলবে না যে তাঁর আন্দোলনের ফলেই বহু বছর পরে কার্ফু সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে সরকার বাধ্য হয়। এভাবে তার রাজনীতির ধারাবাহিকতায় এলো ‘জনগণের মতায়তনে’র মডেল। যে মডেলটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা করেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। তাই এই সংগঠনটি হলো জননেত্রীর রাজনৈতিক দর্শনের সংগঠন। তাই এই সংগঠনের নেতৃত্ব পেলেন এমন একজন যিনি এই দর্শন প্রচারের নেতৃত্বে ছিলেন।

যুবলীগের কংগ্রেস ২০১২ শেষ হওয়ার ১১/১২ দিন পর দেখা হল ওমর ফারুকের সাথে। জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার এতগুলো সম্মেলন হল কোথাও এত কথা হয়নি। যুবলীগে হল কেন? বলল যারা ‘দাম ও মূল্যের তফাত বোঝে না তারা সত্যিই হতভাগা। আমি- ‘থ’ হয়ে গেলাম। বললাম মানে? স্বল্পভাষী ওমর ফারুক বলল টাকা পয়সা (price & value ) দিয়ে বস্তুর মূল্য মাপা যায় না। যারা এটা বোঝে না, অসকার ওয়াইল্ড তাদের ‘সিনিক’ বলেছেন।

সার্বিক বিবেচনায় যুবলীগের ড্রাইভিং সিটে ওমর ফারুক চৌধুরী হচ্ছেন সঠিক মানুষটি আর তার সাথে পেয়েছেন অজাতশক্র হারুন উর রশীদকে, তাই শেষ কথাটি বলছি, “জয়িতু ওমর ফারুক চৌধুরী হারুন উর রশীদ”।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [২৪৬৪] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।