শিরোনাম : লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ।। হারাতে পারেন দলের পদও রামুতে নৃশংসভাবে খুন ।। প্রথমে মাথা ও হাত, পরে মিলল পা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা কাল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসব আজ মহাসপ্তমী বিসিএস প্রিলিমিনারির নতুন সিলেবাস Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

১২ মার্চ মঙ্গলবার ২০১৩ খ্রি. ২৮ ফাল্গুন ১৪১৯ সাল ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরি
চট্রগ্রাম
২৯.৮ ডিগ্রি সে. | ১৯.৫ ডিগ্রি সে.

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
উপ-সম্পাদকীয়   বিস্তারিত  

কিছুক্ষণ পর আজকের পত্রিকা প্রকাশিত হবে।

বায়ুদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি : ঘরে বাইরে বিপদ

এম. ওয়াহিদ উল্লাহ

বায়ুদূষণকে বিশ্বের অন্যতম ১০টি মৃত্যু কারণের একটি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ৬ষ্ঠ বিপজ্জনক মৃত্যু কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জিবিডি রিপোর্ট (Global Burden of Disease Report )। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় প্রতি ১০ বছরে সমগ্র বিশ্বের মৃত্যু কারণ পর্যালোচনা করে এই রিপোর্ট প্রণীত হয়। সমগ্র বিশ্বে বায়ু দূষণজনিত রোগে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর বিশ্বে ৩২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য জানিয়েছেন গবেষকরা। যানবাহনের আধিক্য, ডিজেল চালিত যানবাহন মূল কারণগুলোর অন্যতম। এছাড়া ইটখোলা, কলকারখানার ধোঁয়া এবং বর্জ্য দূষণের মূল কারণ। সমগ্র বিশ্বে বায়ুদূষণজনিত কারণে মৃত্যুহার ২০০০ সালের তুলনায় ৩০০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে, তার মধ্যে ৬৫% এশিয়ায় অর্থাৎ আমাদের অঞ্চলে।বায়ুদূষণে বাইরের পরিবেশ বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ক্ষতি বেশি হচ্ছে ধারণা করা হতো। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরে ঘরে এমনকি গ্রামাঞ্চলেও দূষণের শিকার হচ্ছেন মহিলা। শিশু এমনকি গর্ভস্থ সন্তান। এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন শ্রী রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় চেন্নাই এর আই,সি,এম,আর সেন্টার ফর এডভান্সড রিসার্চ অন এনভায়রনমেন্ট হেলথ এর পরিচালক কল্পনা বালাকৃঞ্চণ। লাকড়ির চুলা, কয়লা বা অন্য কিছু দিয়ে যারা রান্না করেন তারাই এমন দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতি হচ্ছে গর্ভস্থ সন্তানের। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় “ক্লিন ফুয়েল” ব্যবহার। এলপি গ্যাস, বায়ো গ্যাস এর ব্যবহার বৃদ্ধিতে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

সম্প্রতি “রোগের বোঝা : বায়ুদূষণ প্রধান মৃত্যু কারণের অন্তর্গত। (Burden of disease, Air pollution top killers )” শীর্ষক এক ওয়ার্কশপ আয়োজন করে ভারতের সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্ট (CSE ), ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এফেক্টস ইন্সটিটিউট। (Health Effects Institute, Boston, U.S.A )

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া হ্যাবিটেট সেন্টারের কনভেনশন সেন্টারস্থ গুলমোহর হলে এই আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করেন বোস্টন যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এফেক্টস ইন্সটিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবার্ট ওকীফে, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট এ্যারন কোহেন, ভারতের শ্রীরামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এডভান্সড রিসার্চ অন এনভায়রনমেন্ট পরিচালক কল্পনা বালাকৃঞ্চণ, অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স (AIIMS ) এর প্রফেসর এবং মেডিকেল অনকলজি বিভাগের প্রধান বিনোদ রায়না, বল্লভভাই প্যাটেল চেস্ট ইন্সটিটিউট এর কার্ডিওরেসপিরেটরি বিভাগের প্রধান এস. কে. ছাবড়া প্রমুখ।

প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব কেশব দেশিরাজু। মূল প্রবন্ধ ‘বিষাক্ত বাতাস এবং আমাদের স্বাস্থ্য : ভবিষ্যত প্রজন্ম’ উপস্থাপন করেন সিএসই-র রিসার্চ এন্ড এডভোকেসি-র নির্বাহী পরিচালক অনুমিতা রায় চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দিল্লীর পরিবেশ সচিব সঞ্জীব কুমার, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি উপলব্ধি (Uderstanding the Health Risk ) এ সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্ট (CSE ) এর ডিরেক্টর জেনারেল সুনিতা নারায়ণ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অল ইন্ডিয়া ইন্ট. ইন্স. অব মেড. সায়েন্স (AIIMS ) পালমোনারী মেডিসিন বিভাগের প্রধান রণদ্বিপ গুলেরিয়া, তৃতীয় অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ভি. রাজগোপালন। আলোচনা করেন নেফরন ক্লিনিক এন্ড হেলথ কেয়ার এর সিএমডি সঞ্জীব বাগাই। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ু দূষন বিশ্বের দশটি মৃত্যু কারণের মধ্যে ষষ্ঠ বিপদজনক কারণ। বাইরের বায়ু দূষণ অভ্যন্তরীন বায়ু দূষণের তিন ধাপ পেছনে আছে যা এই অঞ্চলে দ্বিতীয় বড় মৃত্যুর কারণ। গবেষকরা দিল্লীর অবস্থা ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। বংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকেও দূষণের শিকার বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতে উচ্চ রক্তচাপ, অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষণ, ধূমপান এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যু হারের পরেই বাইরের বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু হার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ২০১০ সালে ৬,২০,০০০ অকাল মৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণজনিত রোগে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলে অর্ধেক জনসংখ্যা গ্রহণযোগ্য মাত্রার অধিক দূষিত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। যানবাহনের সংখ্যাধিক্যকেই তারা এর জন্য দায়ী করেছেন।

বিশেষ করে ডিজেলচালিত বড় বড় ট্রাক সমগ্র দেশে দূষণ ছড়াচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ক্যান্সার গবেষণায় ডিজেলের ধোঁয়াকে ক্লাস ওয়ান কার্সিনোজেন বলে বর্ণনা করেছেন, যা ধূমপানের মতোই ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

দূষিত বায়ু কাউকেই রেহাই দেয় না। ধনী দরিদ্র, শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ- সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যানবাহনের চাপ কমাতে চিন্তাভাবনার কথা বলা হয়েছে আলোচনায়। প্রত্যেক আবাসিক এলাকার কাছে ভালো স্কুল থাকলে বিশাল গাড়ি বহরের চাপ থাকবে না। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবিষৎ চিন্তার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত প্রতিটি কর্মস্থলের সাথে বা কাছাকাছি আবাসিক ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে কর্মস্থলে যেতে যানবাহন ব্যবহার করতে না হয়।

পরিকল্পিত নগর, শিল্প এলাকা যানবাহনের চাপ কমাবে, হ্রাস পাবে বায়ু দূষণ। শহরে-গ্রামে রান্নার কাজে “ক্লিন ফুয়েল” নিরাপদ জ্বালানী ব্যবহার মা ও শিশু ,অনাগত সন্তান এবং পরিবারের সবার স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস করবে এমনটাই আশা করেন গবেষকরা।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর বিনোদ রায়না, বিভাগীয় প্রধান ড. বি. আর. আন্বেদকার ইন্সটিটিউট রোটারি ক্যান্সার হাসপাতাল, অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স, ভারত ধূমপায়ীদের যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান ত্যাগ করে নিজের এবং পরিবারের আশেপাশে মানুষ যাদের পাশে তিনি ধূমপান করেন তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন- ধূমপান শুধু তারই ক্ষতি করে না আশেপাশের মানুষের ক্ষতির কারণ। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় ক্ষতির ভয়াবহ দিকগুলো তিনি ওয়ার্কশপে উপস্থাপন করেন।

বায়ুদূষণকে বিশ্বের অন্যতম ১০টি মৃত্যু কারণের একটি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ৬ষ্ঠ বিপদজনক মৃত্যু কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জিবিডি রিপোর্ট (Global Burden of Disease Report )। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় প্রতি ১০ বছরে সমগ্র বিশ্বের মৃত্যু কারণ পর্যালোচনা করে এই রিপোর্ট প্রণীত হয়। সমগ্র বিশ্বে বায়ু দূষণজনিত রোগে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর বিশ্বে ৩২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য জানিয়েছেন গবেষকরা। যানবাহনের আধিক্য, ডিজেল চালিত যানবাহন মূল কারণগুলোর অন্যতম। এছাড়া ইটখোলা, কলকারখানার ধোঁয়া এবং বর্জ্য দূষণের মূল কারণ। সমগ্র বিশ্বে বায়ুদূষণজনিত কারণে মৃত্যুহার ২০০০ সালের তুলনায় ৩০০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে, তার মধ্যে ৬৫% এশিয়ায় অর্থাৎ আমাদের অঞ্চলে।

নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, গবেষক ছাড়া ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান এর ২৪ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ থেকে তিন সদস্যের সাংবাদিক প্রতিনিধিদলে ছিলেন দৈনিক আজাদীর ঢাকা ব্যুরো প্রধান এম. ওয়াহিদ উল্লাহ, ডেইলি স্টার এর বিশেষ প্রতিনিধি রেজাউল করিম এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এর ডেপুটি নিউজ এডিটর শামিম আরা শিউলি।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [৪৭৫] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।