শিরোনাম : ব্যতিক্রমী আয়োজন একুশের ক্যালেন্ডার প্রদর্শনী গ্রামাঞ্চলের জন্য সৌরশক্তি চালিত অ্যাম্বুলেন্স হাজারখানেক ওপাড়ে গিয়েছিল পরিচয়পত্রের আশায় ।। আনান কমিশন যাওয়ার পর এসেছে আরও পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা স্যার টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না ।। মন্ত্রীকে দেখে অভিযোগ ভুক্তভোগীর এলএ শাখার ৩ কর্মচারী স্ট্যান্ড রিলিজড ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করলো যুবলীগ নেতার ভাই দর্শকশূন্য খেলার মাঠ ।। প্রচারণা নাকি আগ্রহ-কোনটি কম Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

১২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৭ খ্রিঃ ২৯ পৌষ ১৪২৩ সাল ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
    আজকের দিনে কোন ফিচার পাতা সংরক্ষিত নেই।
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

চট্টগ্রামে শিক্ষক সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী ।। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে চাই সামাজিক সচেতনতা

আজাদী প্রতিবেদন

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন- জঙ্গি তৈরির আখড়া হিসেবে মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা সঠিক নয়। জঙ্গি গোষ্ঠী দেশের অভিজাত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করছে। কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। এখন নারীদেরও এ কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। তাই শিক্ষক, অভিভাবক ও স্কুল কমিটিসহ স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে হবে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে ‘শিক্ষার উন্নত পরিবেশ, জঙ্গিবাদমুক্ত শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক এক শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন প্রায় ১৬’শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) প্রধান অংশ নেন। শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা ২১ মাদ্রাসাকে অনার্সের আওতায় এনেছি। যারা ইসলামের কথা বলত তারা তাদের শাসনামলে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য একটা ইটও দেয়নি। বর্তমান সরকার আরও এক হাজার ৩০০ মাদ্রাসার প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সুযোগও বাড়িয়েছে। সমাবেশে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের

বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তবে পাঠ্যবইয়ে ভুল নিয়ে বক্তব্যে তিনি কিছুই বলেন নি। বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের কোন প্রশ্ন করারও সুযোগ দেন নি। উল্লেখ্য, ‘ভুলে ভরা’ পাঠ্যবই বাতিল চেয়ে গত মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় ৮৫ জন অধ্যাপক, লেখক, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক ও গবেষণাকর্মী। পাঠ্যবইয়ে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িকতা ঢোকানোর অভিযোগ করে এর পরিণতি হিসেবে জঙ্গিবাদের উত্থানের বিষয়ে সতর্ক করেছেন তারা।

একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমার যা বলার বক্তব্যে বলেছি। আমার আর কিছু বলার নেই।’ সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, মাছ রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ, খাদ্যেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর সব কিছুই বর্তমান সরকারের আমলে সম্ভব হয়েছে। সামাজিকভাবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আচরণের বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি জঙ্গিদের ফাঁদে পা না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা বেহেশতের লোভে শিক্ষার্থীদের জঙ্গি বানাচ্ছে তারা (নেতারা) কেউ কিন্তু বুকে বোমা নিয়ে আত্মঘাতী হয় না। যারা আত্মঘাতী হচ্ছে তাদের লাশ পরিবারও গ্রহণ করছে না।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ্য ছিল সেটা অর্জনে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিরা নানাভাবে মাঠে আছে। যত বাধাই আসুক সরকার তার ভিশন-২০২১ পূরণ করবে।’ উন্নয়ন থামাতে বাংলাদেশে নানা খাতে কর্মরত বিদেশিদের উপর জঙ্গি হামলা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদেশিদের যাতায়াত আছে এমন জায়গায় হামলা চালাতে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জঙ্গিবাদে জড়ানো হচ্ছে। তাই আধুনিক ও ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করা হচ্ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গিদের সংখ্যা কমলেও তারা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের যথার্থভাবে চেনা ও তাদের আস্থা অর্জনের উপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনি যদি আপনার শিক্ষার্থীকে নাই চেনেন, তাহলে সে কী করছে কীভাবে জানবেন? তাই আপনি যে ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াবেন, তাদেরকে চিনতে হবে, জানতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা, নাটক, পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিতর্ক আয়োজন বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি আহবান জানান শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষার যা কিছু অর্জন সবই শিক্ষকদের। শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কিভাবে আমাদের দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হলো? হলি আর্টিজানে বোমা হামলা আমাদের কত পিছিয়ে দিয়েছে তাও ভেবে দেখতে হবে। বিদেশিদের হত্যা করে জঙ্গিরা যে বর্বরতা দেখিয়েছে তা কখনো কারো কাম্য নয়। সরকার ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদকে কঠোরভাবে দমন করেছে। সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষাঙ্গন একটি পবিত্র স্থান। এখানে জঙ্গিবাদের উত্থান কখনো মেনে নেয়া যায় না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে জঙ্গিবাদে জড়াতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মদদ দেয়া হচ্ছে এবং পৃষ্ঠপোষকতা করছে। যেকোন কিছুর বিনিময়ে শিক্ষাঙ্গনে জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের সময়োপযোগী ভূমিকা রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব (কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ) মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন, ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ও আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয়-সাব কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. মাহবুবুর রহমান, জেলাপ্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখেন। এছাড়া শিক্ষকদের মাঝে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জেসমিন আক্তার, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাফর আহমেদ, লামা মাতামুহুরী কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শীলা তালুকদার, টেকনাফের আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) . অরুণা বিশ্বাস, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) রুহী রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বিল্লাল হোসেন, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্য আবুল হাসান, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল মোবিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, বিদ্যালয় পরিদর্শক কাজী নাজিমুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [২৩৬] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।