শিরোনাম : ব্যতিক্রমী আয়োজন একুশের ক্যালেন্ডার প্রদর্শনী গ্রামাঞ্চলের জন্য সৌরশক্তি চালিত অ্যাম্বুলেন্স হাজারখানেক ওপাড়ে গিয়েছিল পরিচয়পত্রের আশায় ।। আনান কমিশন যাওয়ার পর এসেছে আরও পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা স্যার টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না ।। মন্ত্রীকে দেখে অভিযোগ ভুক্তভোগীর এলএ শাখার ৩ কর্মচারী স্ট্যান্ড রিলিজড ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করলো যুবলীগ নেতার ভাই দর্শকশূন্য খেলার মাঠ ।। প্রচারণা নাকি আগ্রহ-কোনটি কম Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

১২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৭ খ্রিঃ ২৯ পৌষ ১৪২৩ সাল ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
    আজকের দিনে কোন ফিচার পাতা সংরক্ষিত নেই।
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা কতটা স্বচ্ছন্দ ও স্বাধীন ।। জেলা পরিষদ

মোরশেদ তালুকদার

আইন অনুযায়ী, ‘জেলার সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনাসহ’ ১২টি ‘আবশ্যিক’ কাজ করার ক্ষমতা আছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের। এর বাইরে ‘শিক্ষা, সংস্কৃতি, জনস্বাস্থ্যসহ ৭টি সেক্টরে আরো ৬৮ ধরনের ‘ঐচ্ছিক’ কাজ করতে পারবেন তারা’। তবে আইনে কাজের আওতা বেশি থাকলেও ‘আর্থিক ব্যয়’, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণ’সহ নানা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও আছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদভুক্ত এলাকায় স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের (সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা) ‘জনপ্রতিনিধি’ থাকায় কাজ করতে গেলে তাদের সঙ্গে ‘ইগোজনিত’ দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এমন পরিস্থিতিতে, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের ৫৯ জন নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গতকাল শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ গ্রহণকারী চেয়ারম্যানদের বেশিরভাগই আইনগত সীমাবদ্ধতা দূর করা উচিত মনে করছেন। তারা বলছেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পরিপত্র তৈরির কাজ চলছে বলে আমরা জেনেছি।’ পরিপত্র জারির মধ্য দিয়ে তাদের কর্মপরিধির নানা প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি আসায় জেলা পরিষদ আগের চেয়ে শক্তিশালী হবে। তাছাড়া আইনের বাইরেও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জেলা পরিষদের একজন চেয়ারম্যান কিছু ‘এডভান্টেজ’ (সুবিধা) পাবেন। তাই কাজ করতে গেলে খুব বেশি সমস্যা হবে না।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ আগের মত হবে না। এখন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্য আছেন। চাইলেই এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। সবার সাথে আলোচনা করেই নিতে হবে। এটা একধরনের পরিবর্তন।

আরেকটি বিষয়, আগে ছিলেন ‘অর্নিবাচিত প্রশাসক’। শপথ নিতে হয় নি। তাই তাদের মধ্যে এক ধরনের নৈতিক দুর্বলতা ছিল। এখন তারা শপথ নিয়েছেন। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এখন নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে নৈতিকভাবে আগের সেই দুর্বলতা আর থাকবে না। এখন জেলা পরিষদ আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হবে। এখন যেটা প্রয়োজন, চেয়ারম্যানদের মধ্যে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দেশপ্রেম ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু সম্পদ থাকলে হবে না, সেটার ব্যবহার তাদের জানতে হবে। এটা রপ্ত করতে হবে। তাদের সম্মানী ভাতা বাড়িয়ে একটা স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়েছে। এখন তারা ফুল টাইম সময় দিতে পারেন।

কিন্তু ‘জেলা পরিষদ আইনে’ও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে বলে অনেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনে করেন। এ বিষয়টি কিভাবে উত্তরণ সম্ভব? এমন প্রশ্নে এ স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আইনের সীমাবদ্ধ থাকবে। এগুলো রিমুভ করার জন্য সরকারকে বলতে হবে। আসলে একজন রাজনৈতিক নেতা যখন নির্বাচিত হন তখন আইনের বাইরেও সেখানে কিছু ‘এডভান্টেজ’ (সুবিধা) থাকে। তারা সেটিও কাজে লাগাতে পারবেন।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে প্রকাশিত জেলা পরিষদ আইনের ৮২নং ধারা অনুযায়ী ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সারাদেশের ৬১ জেলা পরিষদে দলীয় লোকদের ‘প্রশাসক’ পদে নিয়োগ করেছিল সরকার। জেলার উন্নয়ন সমন্বয় এবং আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন নিয়ে জেলার অধিক্ষেত্রে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব সৃষ্টি হওয়ায় তখন জেলা পরিষদে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ওইসময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে এম এ সালামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তিনি ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর নিজ কার্যালয়ে যোগ দেন। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে প্রায় দীর্ঘদিন কার্যত কর্মহীন ছিলেন এম. এ সালামসহ দেশের অন্যান্য জেলা পরিষদের প্রশাসকরা। পরবতীতে ২০১২ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে এসে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা পরিষদের বিভিন্ন ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতা পান প্রশাসকরা। এর আগে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করতেন।

২০১২ সালের এপ্রিল মাসে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারিকৃত এক অফিস আদেশে বলা হয়, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসকগণ উন্নয়নমূলক কাজে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন। একই সাথে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যক্তি পর্যায়ে ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানও দিতে পারবেন বলে ওই অফিস আদেশ বলা হয়। এ আদেশে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের জন্য জেলা পর্যায়ে সব উন্নয়মূলক কাজ পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রতিবেদন পাঠানোর ক্ষমতাসহ সাতটি বিষয়ে কর্ম নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রশাসকদের (নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রশাসক ছিলেন) জন্য নতুন করে সাতটি কাজও নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে ওইসময় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসকদের ব্যয় ক্ষমতা বাড়িয়ে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে অনেকে সমালোচনা করেছিলেন প্রশাসকদের।

এদিকে প্রশাসক পদে নিয়োগের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় দেশের ৫৯ জেলা পরিষদ নির্বাচন। গতকাল নির্বচিত চেয়ারম্যানরা শপথও গ্রহণ করেন। তবে এখনো সেই ‘সীমাবদ্ধতা ভীতি’ রয়েছে তাদের মধ্যে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুস সালাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আগে কাজ করতে গেলে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। এখন সেটি দূর হবে। এ বিষয়ে পরিপত্র তৈরি হচ্ছে। পরিপত্র জারি হলে স্পষ্ট করে বোঝা যাবে’।

প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় কি কি সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছেন- এমন প্রশ্নে আবদুস সালাম বলেন, ‘আর্থিক ব্যয় সীমাবদ্ধ ছিল। এডিপি বরাদ্দ কম ছিল। বিশেষ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ‘নির্বাচিত-অনির্বাচিত’ হিসেবে আইনগত সীমাবদ্ধতা ছিল। আমাদের যে বার্ষিক পর্যালোচনা মিটিং হত সেখানে আমরা বিষয়গুলো লিখিতভাবে জানিয়েছি। মৌখিকভাবেও বলতাম। ওই সময় উত্তর ছিল, ‘সীমাবদ্ধতা আছে’। ইঙ্গিত দেয়া হত নির্বাচিত হলে দূর করার। এখন মন্ত্রণালয়ে পরিপত্র তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি পরিপত্র জারি হলে আগের সেই সীমাবদ্ধতা থাকবে না। কারণ, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে সরকারের উন্নয়ন মানুষের আরো দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাচ্ছেন।’

কাজ করতে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান বা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কোন ধরনের বিরোধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কী না- এমন প্রশ্নে এম. . সালাম বলেন, ‘আগে হয় নি। এখন কেন হবে। তারাও সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমরাও। নিজের আওতায় পরষ্পরের সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো তরান্বিত করবো। এতে কোন ভুল বুঝাবঝি বা দূরত্ব হওয়ার কথা না।’

জেলা পরিষদের কার্যাবলী :

জেলা পরিষদ আইন-২০০০ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আবশ্যিক কার্যাবলী ১২টি। এগুলো হচ্ছে- জেলার সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের পর্যালোচনা। উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা, সাধারণ পাঠাগারের ব্যবস্থা ও সেটির রক্ষণাবেক্ষণ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা বা সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত নই এমন জনপথ, কালভার্ট ও ব্রিজের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন। রাস্তার পাশে ও জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বৃক্ষরোপণ ও তার সংরক্ষণ, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উদ্যান, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা ও তা রক্ষণাবেক্ষণ। সরকারি, উপজেলা পরিষদ বা পৌরসভার রক্ষণাবেক্ষণে নাই এমন খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ, সরাইখানা, ডাকবাংলা এবং বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ, জেলা পরিষদের অনুরূপ কার্যাবলী সম্পাদনরত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা, উপজেলা ও পৌরসভাকে সহায়তা, সহযোগিতা এবং উৎসাহ প্রদান, সরকার কর্তৃক জেলা পরিষদের উপর অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং সরকার কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য কাজ করা।

এর বাইরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক কল্যাণ, গণপূর্ত বিষয়ক এবং কর আদায়, টোল নির্ধারণ ও আদায় ইত্যাদি ৭ সেক্টরে ৬৮ ধরণের ঐচ্ছিক কাজ করা যাবে।

প্রসঙ্গত, লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮৫ আইনের ধারায় প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ডিস্ট্রিক বোর্ড ১৮৮৭ সালের ৫ এপ্রিল থেকেই চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [১৪৪] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।