শিরোনাম : স্বাধীনতার ৪৬ বছর ।। আজ আত্মপ্রত্যয়ের দিন চক্রান্ত চলছে এখনো তাই জঙ্গি হানা ।। ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জেলা পরিষদের প্রকল্প ।। ১২ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ পরিদর্শনে মেয়র ।। চমেক হাসপাতাল সংলগ্ন গণকবর সংরক্ষণের পদক্ষেপ পাকসেনাদের হত্যা ও নির্যাতনের বোবা সাক্ষী কালুরঘাট সেতু সিলেটে বোমায় নিহত ৪ ।। জঙ্গি বিরোধী অভিযানের মধ্যেই দুই দফা হামলা, আহত ৪৩ অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বন্দরে খাদ্যশস্য খালাস শুরু Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

১২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৭ খ্রিঃ ২৯ পৌষ ১৪২৩ সাল ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
    আজকের দিনে কোন ফিচার পাতা সংরক্ষিত নেই।
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

মইজ্জ্যারটেকে কেন বার বার দুর্ঘটনা

আবেদ আমিরী, পটিয়া

সড়কের ওপর অবৈধভাবে গড়ে উঠা পশুর হাটের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মইজ্জ্যারটেকে ঘন ঘন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া নিত্য যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী। বাজার ঘিরে পশুর সমাগম, বিকিকিনি, গাড়িতে পশু উঠানো-নামানো এবং ট্রাফিক সিস্টেম অব্যবস্থাপনার ফলে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে থানা ও ট্রাফিক পুলিশ এ সমস্যার জন্য সড়কের উপর গড়ে ওঠা অবৈধ পশুর হাটকে দায়ী করছে।

এদিকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মইজ্জ্যারটেক থেকে অবৈধ হাটটি উচ্ছেদের জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দিলেও এর মধ্যে সাড়ে তিন মাস পার হয়েছে। কিন্তু পটিয়া উপজেলা প্রশাসন এখনো আদালতের আদেশ তামিল করেনি বলে অভিযোগ করেছেন হাইকোর্টে দায়ের করা মামলার বাদি সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর এবং আবদুস ছত্তার।

স্থানীয়রা জানান, অবৈভাবে মইজ্জ্যারটেকে সড়কের উপর হাট-বাজার বসিয়ে সেখানে বিক্রিত প্রতিটি পশু থেকে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু গত আড়াই বছরে এক টাকাও জামা হয়নি সরকারের কোষাগারে। গত আড়াই বছর ধরে প্রতিটি পশুর ক্রেতার কাছ থেকে হাসিল বাবদ ৮০০ টাকা হারে আদায় করা হলেও গত এক মাস ধরে তা বাড়িয়ে আদায় করা হচ্ছে ১২০০ টাকা হারে। পটিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অবৈধভাবে বাজার স্থাপন একটি অপরাধ। এরপর হাসিলের নামে রশিদ দিয়ে রাজস্ব আদায়ে আরেকটি অপরাধ করছেন দখলদার সিন্ডিকেট সদস্যরা।

অন্যদিকে অবৈধ হাট-বাজারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নগরীর প্রধান দুটি পশুর হাটের (সাগরিকা ও বিবিরহাট) ইজারাদারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশত হাট-বাজার ইজারাদাররা। এ কারণে অবৈধভাবে গড়ে উঠা হাট-বাজার অপসারণের আদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজারের পশুর হাট ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর এবং আবদুস ছত্তার। আদালতের বিচারক বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও রাজিক আল জালিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে গত ৬ সেপ্টম্বর এক মাসের মধ্যে বাজারটি উচ্ছেদের আদেশ দেন। ওই আদেশের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর দীপক কুমার রায় বাজারটি উচ্ছেদ করতে ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আদেশ দেন। আদালতের আদেশের তিন মাস আর জেলা প্রশাসকের দপ্তরের আদেশের তিন মাস ইতোমধ্যে পার হয়েছে। কিন্তু বাজার এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি।

গতকাল সরেজমিনে জানা গেছে, মইজ্জ্যারটেক এলাকায় পশুর হাটে সড়কের উপর নতুন নতুন স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে নিত্য যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ কোন উপলক্ষ্য এলে পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বাড়ার সাথে সাথে যানজট তীব্র হয়। সড়কের উপর বাজার, পশুর লোড-আনলোড ও পশু বহনকারী পিকআপের স্টেশন এবং সড়কের দুই পাশে পশুর খড়ের গাদার কারণে প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া যানজট ভোর থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত লেগে থাকে বলে জানান যাত্রীরা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হাসেম জানান, নিম্ন ও উচ্চ আদালতের আদেশের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। বাজারটি উচ্ছেদের যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোন সময় বাজারটি উচ্ছেদ করে এর সাথে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া জানান, বাজার উচ্ছেদের বিষয়ে প্রশাসের সাথে সমন্বয় করে সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারটি উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে ওই এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফেলতির জন্য যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কিন্তু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কর্ণফুলী জোনের টিআই সরোয়ার আলম বলেন, বাজারের অব্যবস্থাপনা ও নানা সমস্যার কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যটর মওসুম ও সপ্তহের বিশেষ দিনে যানজট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, বাজার অপসারণসহ কিছু সমস্যার সমাধান করা হলে যানজট কমে যাবে।

কর্ণফুলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কের উপর অবৈধ বাজার স্থাপন করে তাতে চাঁদাবাজি করছে একটি সিন্ডিকেট। এ বিষয়ে উপজেলা ও সড়ক বিভাগকে থানা পুলিশ জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বাজারটি নিয়ে একটি ক্রাইম জোন তৈরি হয়েছে। পাশাপশি যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসন বাজার উচ্ছেদ না করা এবং পুলিশের কাছ থেকে কোন ধরনের প্রতিকার না চাওয়ায় এ বিষয়ে পুলিশ কোন হস্তক্ষেপ করতে পারছে না বলে জানান রফিকুল।

 

 

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [২৭৫] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।