শিরোনাম : ওসির গেস্ট হাউজে মাদক ব্যবসা আদালত ভাঙচুরে আইনজীবীরা ।। সহকর্মীর জামিন না হওয়ায় ক্ষোভ আজ থেকে মাঠে নামছে ।। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকিতে ৫ টিম মহেশখালীতে হচ্ছে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল ।। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন ।। চট্টগ্রামে আরো দুই প্রকল্পের অগ্রগতি হাসপাতালের লিফট ছিঁড়ে আহত ২ Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

১২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৭ খ্রিঃ ২৯ পৌষ ১৪২৩ সাল ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
    আজকের দিনে কোন ফিচার পাতা সংরক্ষিত নেই।
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

আরো উজ্জ্বল হোক আগামীর পথ চলা ।। সরকারের তৃতীয় বর্ষপূর্তি আজ

ঋত্বিক নয়ন

আজ ১২ জানুয়ারি, তিন বছর পূর্তি হল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। গত তিন বছরে বেশ কয়েক মাস চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সাফল্যের মুখ দেখা শুরু করেছে টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে; উন্নয়নের ধারায় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ ঘুচিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আজ বর্তমান সরকারের তৃতীয় বর্ষপূর্তির দিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত এবং নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন নিশ্চিত করার মতো মৌলিক প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সিভিল সমাজসহ দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করে শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। আওয়ামী লীগ সরকার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় তাদের গৃহীত চলমান কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। তাই বাংলাদেশ এখন আর খাদ্যশস্য আমদানি নির্ভর দেশ নয়, রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে সর্বক্ষেত্রে পিতার পাশাপাশি মায়ের নামের স্বীকৃতিও ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকদের ঋণ প্রদান, কৃষি সামগ্রীর মূল্যহ্রাস এবং সহজপ্রাপ্যতাও ছিল বিরাট অবদান। প্রবাসীদের রেমিটেন্স আহরণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। দেশের সম্ভাবনাময় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সরকার মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে দ্রুত উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি, শিক্ষা খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

কয়েক বছর ধরে দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট রাজনীতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। ২০১৬ সালেও ছিল সেই ধারাবাহিকতা। তবে আগে বিভিন্ন বছর নানান রাজনৈতিক উত্তাপ থাকলেও গতবছর তেমন ছিল না।

ঘটনাপ্রবাহ অনুসারে, ২০১৬ সালের শুরু থেকেই বিদেশিদের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ওপর সতর্কতা জারি করে। স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দেয় কূটনৈতিক অঙ্গনে। তবে এই বিভক্তিতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সবই ছিল বিপক্ষ শিবিরে। কিন্তু ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বন্ধুত্ব কাজে এসেছে বাংলাদেশের। রেখেছে পরিস্থিতি উত্তরণে বলিষ্ঠ ভূমিকা। বছরের মাঝামাঝি জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ হলি আর্টিজানে ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলেও শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্সের কারণে তা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে বিদেশিদের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপও সামলেছেন বলিষ্ঠ হাতে।

দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাসেম আলীর ফাঁসি হলেও কোনো টুঁ শব্দ হয়নি বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক তৎপরতায় একে একে ঢাকা সফর করেছেন বিদেশি রাষ্ট্র-নেতারা। ঐতিহাসিক সফরে এসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। গত ২৮ ডিসেম্বর ইউনেসকো মহাপরিচালক পদপ্রার্থী ড. হামাদ বিন আবদুল আজিজ ঢাকায় এসে বলেছেন, ‘অন্যদের উচিত তাকে (শেখ হাসিনা) অনুসরণ করা’। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনা আন্তর্জাতিকভাবেই সমাদৃত হয়েছে। ২০১৬ সালে শেখ হাসিনাকে ‘নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য ইউএন উইমেনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ অ্যাওয়ার্ড। আর ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরেন পলিসি প্রকাশিত বিশ্বের নেতৃস্থানীয় একশ’ চিন্তাবিদের এক তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য এ তালিকায় ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৩ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মৌরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব।

সরকারের তৃতীয় বছর জুড়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছিল নির্বাচনী আমেজ। একের পর এক স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। একে একে হয়েছে পৌরসভা, ইউপি ও জেলা পরিষদের নির্বাচন। ইউপিতে নৌকা-ধানের শীষের লড়াই দেখেছে দেশ। আগের নির্বাচনগুলোতে যথেষ্ট প্রাণহানির পর যে কোনো মূল্যে সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। এর প্রতিফলন দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। অবশ্য নারায়ণগঞ্জে প্রার্থী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতিফলন দেখেছে জাতি। এতে সংসদীয় নির্বাচনের মতো সরকার অদল বদলের কথা না থাকলেও, গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণে এই নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আগে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-র সংশয় ছিল। অবাধ ভোট না হওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ভোট মিটতেই তাদের মুখে কোনও কথা নেই। কোনও অভিযোগের আঙুল তোলেনি নির্বাচন কমিশনের দিকে। মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও বলেনি, এ সব কমিশনের কারসাজি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ১,৭৫,৬১১ ভোট পেয়ে ফের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হারিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সাথাওয়াত হোসেন খানকে। তাঁর ঝুলিতে ৯৬,০৪৪ ভোট। কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের চেয়ে একটি আসন বেশি পেয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ১১, বিএনপি ১২। প্রার্থী ও ভোটারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা, সরকারের সদিচ্ছা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার নেওয়া ব্যবস্থা- সব মিলিয়ে ইসির দৃঢ়তায় ২২ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচন হয় নারায়ণগঞ্জে। নানা শঙ্কা থাকলেও সব ছাপিয়ে ‘দৃষ্টান্তমূলক ভোট’ হয়েছে বলে মত দেন পর্যবেক্ষকরা।

শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা দেখা গেছে অক্টোবরে দলীয় কাউন্সিলে। দলীয় কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে নতুন সাধারণ সম্পাদক ও তরুণ নেতৃত্বে। পাশাপাশি ‘নতুন ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’ - প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় জমে উঠেছে রাষ্ট্রপতির সংলাপ। শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১০টি মেগা প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কাজও সরাসরি মনিটরিং করছেন। পদ্মা সেতু, রূপপুর, মেট্রোরেল, রামপালের কাজ এগিয়ে চলছে তার তত্ত্বাবধানেই।

সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চায়। এজন্য নীতি ও কৌশল নিয়ে কাজ করছে। সরকার লক্ষ্য অর্জনে নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন। ইতোমধ্যে দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়ায় মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকেও দেশের অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ ছাড়া সরকারি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে মানুষের কাজের সংস্থান হয়েছে। এতে দারিদ্র্যতাও কমেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সরকারের নেওয়া উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে দারিদ্র্য বিমোচনে। সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম, বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিনিয়োগ এবং একই সঙ্গে সামাজিক উদ্যোগ দারিদ্র বিমোচনের সাফল্য অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে প্রতিবছর দারিদ্র্য হার ১ দশমিক ২ শতাংশ করে নামিয়ে আনার বিপরীতে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার সরকারের সামনে রয়েছে ভিশন ২০২১। এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ‘রূপকল্প-২০৪১’। এর মধ্যেই নিহিত আছে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত ধাপে এগিয়ে নেয়ার দর্শন। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের পর্যায় পেরিয়ে শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ, সুখী ও উন্নত জনপদ। সুশাসন ও জনগণের ক্ষমতায়ন হবে এ অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র।

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [১১১] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।