শিরোনাম : ওসির গেস্ট হাউজে মাদক ব্যবসা আদালত ভাঙচুরে আইনজীবীরা ।। সহকর্মীর জামিন না হওয়ায় ক্ষোভ আজ থেকে মাঠে নামছে ।। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকিতে ৫ টিম মহেশখালীতে হচ্ছে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল ।। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন ।। চট্টগ্রামে আরো দুই প্রকল্পের অগ্রগতি হাসপাতালের লিফট ছিঁড়ে আহত ২ Stop button Start button

 

  ফেইসবুকে ভক্ত হোন টুইটারে ভক্ত হোন গুগল প্লাস এ ভক্ত হোন। সাহায্য বিজ্ঞাপন শুল্ক পাঠক প্রতিক্রিয়া রেজিস্ট্রেশন

 

১২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ২০১৭ খ্রিঃ ২৯ পৌষ ১৪২৩ সাল ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
    আজকের দিনে কোন ফিচার পাতা সংরক্ষিত নেই।
চট্রগ্রাম
আজকের দিনের তাপমাএা সংরক্ষিত নেই।

আজকে অনলাইন জরিপের জন্য কোন প্রশ্ন সংরক্ষিত নেই।
প্রথম পাতা   বিস্তারিত  

রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠক ।। ইসি গঠনে চার প্রস্তাব ও ১১ সুপারিশ আওয়ামী লীগের

ঢাকা ব্যুরো

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ‘এখনই’ নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করতে রাজি বলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে এই আলোচনায় অংশ নেয়। বঙ্গভবনের দরবার হলে দেড় ঘণ্টার এই সংলাপের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের সামনে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। ‘সময় স্বল্পতার কারণে আগামী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় যাতে এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সে উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু ইসি গঠনের আইন এতোদিনেও না হওয়ায় গতবারের মত এবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনের এই উদ্যোগ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এর আগে সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয়পার্টিসহ কয়েকটি দল চলতি সংসদেই ইসি গঠনের বিল তোলার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বর্তমান সংসদকে ‘জনপ্রতিনিধিত্বহীন’ আখ্যায়িত করে ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। জয়নাল আবেদীন বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ নির্বাচনে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে বলেও রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ছিলেন প্রতিনিধি দলে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে মোট চারটি প্রস্তাব এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১১টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সংলাপ শেষে ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়গুলো সুপারিশ করা হয় জানান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে প্রস্তাবগুলো হচ্ছে:

১। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। ২। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যা উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। ৩। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে ইসি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৪। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করা।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১১ বিষয়গুলো হচ্ছে:

. একটি স্বাধীন ও কার্যকরী নির্বাচনী প্রশাসন। ২. নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা। ৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ। ৪. ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা। ৫. নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবল মাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/ কর্মকারীদের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ। ৬. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ। ৭. দেশি বিদেশি পর্যটক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা। ৮. নির্বাচনে পেশি শক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা। ৯. নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ১০. নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্যে আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা। ১১. নির্বাচন কালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

উল্লেখ্য, সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা মধ্য দিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ। ইসির নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে চার দফায় মোট ২৩টি দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আলোচনা শেষ হয়েছে। পঞ্চম দফায় আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রপতি সংলাপের আমন্ত্রণ জানাবেন বলে বঙ্গভবন থেকে জানানো হয়েছে।

 

পাঠকের মন্তব্য [০]   |    [২১৭] বার পঠিত

মন্তব্য প্রদানের জন্য( সাইনইন) করুন । নতুন ইউজার হলে (নিবন্ধন ) করুন ।