কী হচ্ছে এসব!?
ফ্রয়েডের তত্ত্বে বিশ্বাসী এক শিক্ষককে বলতে শুনেছি, পৃথিবীই ঘুরে ‘কাম’-এর কারণে। এতটা রুক্ষভাবে বললে বা শুনলে হয়তো খারাপই লাগবে। কিন্তু বাস্তবতা আসলে কী? যতগুলো অপরাধ চারপাশে ঘটছে তার বেশিরভাগই হচ্ছে তথাকথিত প্রেম বা যৌনতাকে ঘিরে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনা বেশ পীড়া দিচ্ছে, হতাশা তৈরি করছে। ভালোবাসা-প্রেম-কামকে এক করে ফেলছে অনেকেই। ভোগের লিঞ্ঝায় মেতে উঠছে কেউ কেউ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় একই ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হলো। ঢাকার গুলশানে কথিত এক প্রেমিকের হাতে খুন হলেন এক দম্পতি। প্রায় একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটলো গত শনিবার। রাজধানীর কলাবাগানে কথিত প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক দম্পতি ও তাদের মেয়ে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক বখাটের ছোড়া গুলিতে চোখ গেলো এক স্কুলছাত্রীর। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে এক কিশোরী শিকার হলো গণধর্ষণের। জামালপুর উচ্চবিদ্যালয়ে মারা গেলো স্কুলছাত্র শাহ্জামাল স্বাধীন। প্রত্যেকটি ঘটনাই পীড়াদায়ক, উদ্বেগজনক। চারিদিকে কী হচ্ছে এসব!?।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বড় শহরগুলোতে অপরাধও হয় তুলনামূলক বেশি। সত্যিই তার জ্বলন্ত প্রমাণ মিলছে রাজধানীতে। বিয়ের দাবিতে বাড়িতে ঢুকে সাবেক প্রেমিকার বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা! কেমন দেশে আছি আমরা। রুবেল আর তার বন্ধু মিথুন এ ঘটনা ঘটিয়েছে গত বুধবার সকালে। সাদেক নামের এক ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে সেদিন বীরদর্পে তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে রুবেল। তার দাবি ছিল একটাই- হয় মেয়ের বিয়ে নয় বাবা-মায়ের প্রাণ! খুনিরা করলোও তাই। বাধা পেয়ে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা-মায়ের বুকে গুলি ছুড়লো। গুলি করে মেয়ের উদ্দেশ্যে বলে গেলো, থাক্ তুই এবার একলা থাক্। তোর বাবা-মারে শেষ কইরা দিয়া গেলাম। ভাবতে কষ্ট হয়, ওই ছেলে দুটোও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সম্ভবত বাবা-মায়ের সঠিক নজরদারির অভাবে বখে গেছে। অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনার পর শেষপর্যন্ত ঘটিয়েছে খুনের ঘটনা! তা-ও জোড়া খুন! এবং একেবারে প্রেমিকার বাবা-মাকে! এ ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার-প্রকাশিত হয়েছে। এর ফল কী হলো- সম্ভবত আরও কিছু ঘটনা, দুর্ঘটনা। শনিবার রাজধানীর কলাবাগানে এক দম্পতিকে ছুরিকাঘাত করেছে ‘প্রেমিক’ আশরাফ। ঘটনাগুলো আমার কাছে কেমন গোলমেলে মনে হয়। গুলশানে খুন আর কলাবাগানে খুনের চেষ্টা- মনে হচ্ছে একই সূত্রে গাঁথা। পত্রপত্রিকায় যতদূর দেখা গেছে, তাতে বোঝা যায়, বখাটে রুবেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নিহত ব্যবসায়ী সাদেকের স্কুলপড়ুয়া মেয়ের। বখে যাওয়ার পর রবেলের সাথে প্রেমের ইতি ঘটে ওই মেয়ের। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ঘটনা ঘটায় রুবেল ও মিথুন। সত্যিকার ‘প্রেম’ হলে কি এ ঘটনা ঘটাতে পারতো রুবেল। সম্ভবত শুধু ভোগেরই পূজারি ছিল রুবেল। যার অপর নাম কাম তথা মনীষী ফ্রয়েডের সেই আদি সেক্স! যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। যার কারণে ঘটছে নানান অনাচার, অঘটন, চারিদিকে। সর্বশেষ শনিবারও কলাবাগানে ঘটতে যাচ্ছিল একই ঘটনা। মেয়ের সাথে ‘ভালো’ সম্পর্কের সূত্রে প্রায়ই আমিনুর রহমানের বাসায় আসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ডেফোডিল-এর ছাত্র আশরাফ। রাতে মেয়ের সাথে পড়াশোনা করার সুযোগ দিয়ে বেঘোরে ঘুমুচ্ছিলেন আমিনুর ও তার স্ত্রী। ভোররাতের দিকে ২০ লাখ টাকার দাবিতে মেয়ের গলায় ছুরি ধরে আশরাফ। চিৎকার-চ্যাঁচামেচির এক পর্যায়ে আমিনুর, তার স্ত্রী ও মেয়ের হাতে-পায়ে-গায়ে ছুরি বসায় আশরাফ। হাসপাতালে যান তিনজন। এ ঘটনা কি অপরিহার্য ছিল? আমিনুর সাহেব কেন যে এত উদার হলেন ভেবে পাই না। বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া মেয়েকে তিনি সারারাত সহপাঠীর সাথে ‘পড়াশোনা’ করার সুযোগ করে দিলেন। এত উদার আমাদের দেশের অভিভাবক! ভাবতে ভালোই লাগে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এতটা এগোনো কি ভালো? লেখায় উল্লেখ করা অন্যান্য ঘটনাও যৌনতা-সংশ্লিষ্ট। বেশিরভাগ ঘটনায়ই শেষপর্যন্ত নারী ভুক্তভোগী। চৌদ্দগ্রামে বখাটের এয়ারগানের গুলিতে চোখ গেছে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পপির। চোখের বিনিময়ে সাধা হচ্ছে তিন লাখ টাকা! খিলগাঁওয়ে গণধর্ষণের শিকার এক কিশোরী। কলেজিয়েটের সৌমেন ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করেছিল। এসব অপরাধের মূলে কিন্তু যৌনতার সম্পর্ক রয়েছে।
খবরে দেখলাম, কলকাতার একটি কোর্ট লিভ টুগেদারের বৈধতা দিয়েছে। কানাডার কুইবেকে মহিলাদের নেকাব পড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে তা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। শুনতে মৌলবাদীর মতো শুনালেও বলতে হয়, এগুলোর ফলে কিন্তু সমাজে ঝামেলা বাড়বে। অপরাধ বাড়বে। আধুনিকতার নামে যাচ্ছে-তাই হবে। হচ্ছেও। রাজধানী ঢাকায় ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অনেক অঘটনের জন্ম দিচ্ছে। অবাধ মেলামেশার বিপক্ষে নই আমি। কিন্তু মাত্রা যেন কোনোভাবেই অতিক্রম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলেই বলতে হবে না, কী হচ্ছে এসব!?
বমভধটড়টঢধআহটদমম.ডমব

